অস্থিত পৃথিবী | অষ্টম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | CLASS 8 ভূগোল অধ্যায় 2 প্রশ্ন উত্তর
অষ্টম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | অস্থিত পৃথিবী | CLASS 8 ভূগোল অধ্যায় 2 প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন: পাতসংস্থান তত্ত্বটি আবিষ্কৃত হয়—১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে
প্রশ্ন: পৃথিবীপৃষ্ঠে বড়ো পাতের সংখ্যা- ৬ টি
প্রশ্ন: পৃথিবীপৃষ্ঠে ছোটো পাতের
সংখ্যা –২০টি
প্রশ্ন: ‘Tecton' হল একটি— গ্রিক শব্দ
প্রশ্ন: 'প্লেট' শব্দটি প্রথমে প্রয়োগ করেন— JT Wilson
প্রশ্ন: আমেরিকান পাত পশ্চিমে
সরছে বছরে মাত্র — 2-3
Cm
প্রশ্ন: পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাতটি অবস্থিত— প্রশান্ত মহা
সাগরে
প্রশ্ন: ইউরেশীয় ও ভারতীয় পাতের সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়েছে— হিমালয়
প্রশ্ন: দুটো পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হলে তাকে বলে— অভিসারী
প্রশ্ন: দুটো পাত পরস্পরের
বিপরীতে চলমান হলে তাকে বলে— প্রতিসারী পাত।
প্রশ্ন: প্রতিসারী পাতের আর এক
নাম- নিরপেক্ষপাত।
প্রশ্ন: দুটো পাত পরস্পরের
পাশাপাশি চলমান হলে তাকে বলে— নিরপেক্ষ পাত।
প্রশ্ন: বিনাশকারী পাত সীমান্তকে
ইংরেজিতে যে অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করা হয় সেটি হল— ‘T’
প্রশ্ন: গঠনকারী পাত সীমান্তকে
ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয়— ‘R’
প্রশ্ন: নিরপেক্ষ পাত সীমান্তকে ইংরেজিতে নির্দেশ করা হয়- ‘F’
প্রশ্ন: পাতগুলির চালিকা শক্তি
হল – পরিচলন তাপস্রোত
প্রশ্ন: যে পাতসীমান্তে ধ্বংস, বিনাশ কিছুই হয় না তাকে বলে – রক্ষণশীল পাতসীমান্ত।
প্রশ্ন: প্যানজিয়ার উত্তর অংশের
নাম — লরেসিয়া
প্রশ্ন: প্যানজিয়ার অস্তিত্ব
ছিল আজ থেকে ২৫-৩০ কোটি বছর পূর্বে— কার্বনিফেরাস যুগে।
প্রশ্ন: ভূকম্পনের কেন্দ্র থেকে প্রথমে যে তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে পৌছায় তা
হল- P তরঙ্গ।
প্রশ্ন: রিখটার স্কেলে ভূকম্পনের তীব্রতা নির্দেশিত থাকে— ০-১০
দাগে।
প্রশ্ন: যে পাত সীমান্তে সর্বাধিক তীব্র ভূকম্পন ঘটে সেটি হল - অভিসারী
প্রশ্ন: পৃথিবীর মধ্য মহাদেশীয় বলয়ে ভূকম্পের শতকরা পরিমাণ - 20%
প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে বছরে মাত্র- 10 Cm
প্রশ্ন: ফুজিয়ামা আগ্নেয় পর্বত অবস্থিত — জাপানে
প্রশ্ন: দাক্ষিণাত্যের মালভূমি হল একটি – লাভা মালভূমি
প্রশ্ন: ভারতের একটি সক্রিয়
আগ্নেয়গিরি— ব্যারেন
প্রশ্ন: ইটালির একটি সুপ্ত
আগ্নেয়গিরি— ভিসুভিয়াস
প্রশ্ন: একটি মৃত আগ্নেয়গিরি – পোপো
প্রশ্ন: মেক্সিকোর পারকুটিন হল
একপ্রকার— মৃত আগ্নেয়গিরি
প্রশ্ন: ইন্দোনেশিয়ার
ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি— সক্রিয় অবিরাম
প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জীবন্ত
আগ্নেয়গিরিটি হল— হাওয়াই দ্বীপের মৌনালোয়া
প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বোচ্চ জীবন্ত
আগ্নেয়গিরি— ওজোস ভেল সালাডো
প্রশ্ন: আম্লিক লাভায় সিলিকার
পরিমাণ থাকে প্রায়— ৮০%
প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয়
আলোকস্তম্ভ বলা হয় যে আগ্নেয়গিরিকে— স্ট্রম্বোলি।
প্রশ্ন: স্ট্রম্বোলি
আগ্নেয়গিরিটি অবস্থিত – ভূমধ্যসাগর
প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা
বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির নাম— হাওয়াই দ্বীপের মাউন্ট পিলি
প্রশ্ন: পৃথিবীর দ্বিতীয়
বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি – দক্ষিণ আমেরিকার পোপোক্যাটিপেটল
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠ থেকে যতটা গভীরে সর্বাধিক ভূমিকম্পের কেন্দ্র
অবস্থিত- ৫০-১০০ কিমি।
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের যে তরঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি তা
হল- S তরঙ্গ।
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের তীব্রতার মাত্রা নির্ধারিত হয়- রিখটার স্কেলে।
প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ে ঘটে থাকে— ৭০% ভূমিকম্প
প্রশ্ন: পৃথিবীতে প্রতিবছর গড়ে যত বার ভূমিকম্প হয় — ৮,০০০-১০,০০০
প্রশ্ন: স্যান অ্যান্ড্রিয়াস চ্যুতির ওপর অবস্থিত শহর হল – সানফ্রান্সিসকো
প্রশ্ন: ভূকম্পন হল একপ্রকার— আকস্মিক প্রক্রিয়া।
প্রশ্ন: পৃথিবীর যে পার্বত্য অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ভূকম্পন হয় সেটি হল – নবীন ভঙ্গিল পর্বত।
: একটি বাক্যে উত্তর দাও
প্রশ্ন: গ্রিক
শব্দ Tecton' এর অর্থ কী? উত্তর: গঠন করা
প্রশ্ন: 'প্লেট' শব্দটা প্রথম কে প্রয়োগ করেন ?
উত্তর: অধ্যাপক JT Wilson (১৯৬৫ খ্রি.)
প্রশ্ন: মহাসাগরীয় পাত ও মহাদেশীয় পাতের মধ্যে কোনটি বেশি পুরু ?
উত্তর: মহাদেশীয় পাত
প্রশ্ন: পাত সংস্থান তত্ত্ব-এর মাধ্যমে ডুবিদ্যায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার ঘটে কোন
দশকে?
উত্তর: ১৯৬০-এর দশকে
উত্তর: রিখটার স্কেল
প্রশ্ন: যে যন্ত্রে ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবিধির পরিলেখ বা গ্রাফ পাওয়া যায় তাকে কী বলে? উত্তর: সিসমোগ্রাম
প্রশ্ন: অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার ভূত্বকের কত নীচে অবস্থিত ?
উত্তর: ১০০-২০০ কিমি
প্রশ্ন: আমেরিকান পাত কোন্ দিকে সরছে? উত্তর: পশ্চিম দিকে
প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত বছরে কতটুকু পশ্চিমে সরে যাচ্ছে?

প্রশ্ন: কতগুলি
পাত নিয়ে পৃথিবীপৃষ্ঠ গঠিত?
উত্তর: ৬টি বড়ো, ৪টি মাঝারি ও ২০টি ছোটো পাত
প্রশ্ন: আমেরিকান পাত বছরে কতটা সরছে? উত্তর: ২-৩ সেমি
প্রশ্ন: কোন্ পাত সীমানায় নতুন ভূ-ত্বক সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না?
উত্তর: ট্রান্সফর্ম পাত সীমানা
প্রশ্ন: সংরক্ষণশীল বা নিরপেক্ষ পাত সীমানার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: সান-আন্দ্রিজ চ্যুতি
প্রশ্ন: পাতগুলির গড় গতিবেগ কত?
উত্তর: বছরে ১-৬ সেমি
প্রশ্ন: পরিচলন স্রোত মতবাদের প্রবক্তা কে? উত্তর: আর্থার হোমস
প্রশ্ন: পাত সঞ্চালনের হার জানার আধুনিকতম পদ্ধতিটি কী?
উত্তর: GPS ও পুরা চুম্বকীয় তথ্য বিশ্লেষণ
প্রশ্ন: পাতের চলন সম্পর্কে প্রথম কে ব্যাখ্যা করেন।
উত্তর: ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে পার্কার ও ম্যাকেঞ্জি
প্রশ্ন: পাতগুলোর গড় আয়তন কত ? উত্তর: 10000000
বর্গ কিমি
প্রশ্ন: কোন্ পাত সীমান্তে ভূকম্পন ও অগ্ন্যুৎপাত সংঘটিত হয়?
উত্তর: অভিসারী পাত সীমান্তে
প্রশ্ন: যে রেখা বরাবর দুটি পাতের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে তাকে কী রেখা বলে? উত্তর: সীবনরেখা (Suture
Line )
প্রশ্ন: অভিসারী পাত সীমান্তে ভিন্ন ঘনত্বের দুটি পাতের মিলনস্থলে যেখানে ভারী পাত
হালকাপাতের নীচে প্রবেশ করে তাকে কী বলে?
উত্তর: বেনিয়ফ অঞ্চল
প্রশ্ন: বেনিয়ফ অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে কত ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে অবস্থান করে। উত্তর: 45°
প্রশ্ন: বেনিয়ফ অঞ্চলটি ভূপৃষ্ঠ থেকে কত নীচে অবস্থান করে?
উত্তর: ৩০০-৪০০ কিমি গভীরে
প্রশ্ন: ভারতীয় পাত এশীয় পাতের নীচে বছরে কত সেমি হারে প্রবেশ করছে? উত্তর: ২.৪ সেমি
প্রশ্ন: পৃথিবীতে অবস্থিত বৃহদাকার পাতগুলির মধ্যে বৃহত্তম কোনটি?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত
প্রশ্ন: কোন্ পাতগুলি বয়সে নবীন ?
উত্তর: মহাসাগরীয় পাত
প্রশ্ন: কোন্ পাতগুলি বয়সে প্রাচীন?
উত্তর: মহাদেশীয় পাত
প্রশ্ন: আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ কোন্ প্রকার পাত সীমানায় সৃষ্টি হয়?
উত্তর: প্রতিসারী পাত সীমানায়
প্রশ্ন: পাত সঞ্চালনের সর্বোচ্চ গতিবেগ কত? উত্তর: ঘণ্টায় ১২ সেমি
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে যতদূরে যাওয়া যায়, তরঙ্গ কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে? উত্তর: অনুভূমিকভাবে
প্রশ্ন: ভূকম্পনের উপকেন্দ্র থেকে প্রতিপাদ উপকেন্দ্রের কৌণিক দূরত্ব কত? উত্তর: ১৮০°
প্রশ্ন: সিসমোগ্রাফ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: মেক্সিকোর পারকুটিন
প্রশ্ন: সিসমোগ্রাফ যন্ত্র কবে আবিষ্কৃত হয়? উত্তর: ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে
প্রশ্ন: রিখটার স্কেল কে কবে প্রথম আবিষ্কার করেন?
১৯৩৫
খ্রিস্টাব্দে ক্যালিফোর্নিয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি উত্তর: ভূকম্পবিদ
চার্লস এফ রিখটার
প্রশ্ন: মৌনাকিয়া আগ্নেয়গিরির উচ্চতা কত?
উত্তর: প্রায় ১০২০৩ মিটার
প্রশ্ন: 'Old faithful geyser' কোথায় অবস্থিত ?
উত্তর: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইয়োলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে
প্রশ্ন: ‘Old faithful geyser' কত সময় অন্তর উৎক্ষিপ্ত হয়?
উত্তর: প্রতি ৪৫ মিনিট অন্তর
প্রশ্ন: পাত সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট পৃথিবীর দীর্ঘতম শৈলশিরা কোটি?
উত্তর: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা
প্রশ্ন: জে. টি. উইলসন কোন্ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন?
উত্তর: কানাডার টরেন্টো
প্রশ্ন: হাওয়াই দ্বীপ-এর কোন্ আগ্নেয়গিরি একটি hot spot-এর
ওপর রয়েছে? উত্তর:
‘মৌনালোয়া’
প্রশ্ন: ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত গাঢ় সান্দ্র লাভা হাওয়াই দ্বীপের
ভাষায় কী নামে পরিচিত?
উত্তর: ‘আ আ’
প্রশ্ন: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এর আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত অত্যন্ত পাতলা লাভা যা বহুদুরে
প্রবাহিত হয় তাকে হাওয়াই দ্বীপের ভাষায় কী বলে? উত্তর: 'পা হো হো'
প্রশ্ন: ভারতের একটি সঞ্চয়জাত বা আগ্নেয় পর্বতের নাম লেখো।
উত্তর: ব্যারেন
প্রশ্ন: একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির নাম লেখো। উত্তর: সিসিলির
স্ট্রম্বলি
প্রশ্ন: একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির নাম লেখো।
উত্তর: ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া
প্রশ্ন: একটি মৃত আগ্নেয়গিরির নাম লেখো।
উত্তর: মেক্সিকোর পারকুটিন
প্রশ্ন: কোন লাভায় সিলিকার পরিমাণ বেশি? উত্তর:
আম্লিক লাভা
প্রশ্ন: কোন্ লাভায় সিলিকার পরিমাণ কম? উত্তর: ক্ষারকীয় লাভা
প্রশ্ন: পৃথিবীতে ১৫%শতাংশ জীবন্ত আগ্নেয়গিরি আছে?
প্রশ্ন: পৃথিবী ছাড়া অন্য কোন্ কোন্ গ্রহে অগ্ন্যুৎপাত হয়?
উত্তর: মঙ্গল, শুক্র, বৃহস্পতি
প্রভৃতি
প্রশ্ন: সৌরজগতের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরির নাম কী?
উত্তর: মঙ্গলের অলিম্পাস মনস্ (২৭ কিমি)
প্রশ্ন: পৃথিবীতে আগ্নেয়গিরির সংখ্যা কত? উত্তর:
1000 বেশি
প্রশ্ন: নিরপেক্ষ পাতসীমান্তে গঠিত ভূমিরূপ কোনটি ?
উত্তর: সুদীর্ঘ চ্যূতি
প্রশ্ন: অভিসারী পাত সীমান্তে সৃষ্ট ভূমিরূপটি কী?
উত্তর: সুগভীর সামুদ্রিক খাত
প্রশ্ন: অপসারী পাত সীমান্তে সৃষ্ট ভূমিরূপটি কী?
উত্তর: সামুদ্রিক শৈলশিরা
প্রশ্ন: অনুসারী পাত সীমান্তে গঠিত ভূমিরূপ কোনটি?
উত্তর: ভঙ্গিল পর্বত
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কেন্দ্র সর্বাধিক কত কিমি গভীরে অবস্থান করে?
উত্তর: ৩২-৭০০ কিমি
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কেন্দ্রের সোজাসুজি ভূপৃষ্ঠের ওপরের স্থানকে কী বলে? উত্তর: উপকেন্দ্র
প্রশ্ন: উচ্চ তীব্রতার ভূকম্পনের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: পাতের সংঘাত
প্রশ্ন: ভূকম্পনের পরে ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানে প্রথম কোন্ তরঙ্গ এসে আঘাত করে ? উত্তর: P
তরঙ্গ
প্রশ্ন: ভূকম্পনের কেন্দ্র থেকে ভূকম্পীয় তরঙ্গগুলি উপকেন্দ্রের দিকে কীভাবে ধাবিত হয়? উত্তর: উল্লম্বভাবে
পৃথিবীর প্রধান প্রধান পাতসমূহ ও তার বিস্তার
১. উত্তর আমেরিকান পাত : বর্তমান উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ও উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিমাংশ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গঠিত।
২. দক্ষিণ আমেরিকান পাত : বর্তমান দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ আটলান্টিকের পশ্চিমাংশ নিয়ে গঠিত।
৩. ইউরেশিয়ান পাত : ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশ একত্রিত ভাবে।
৪. আফ্রিকান পাত : আফ্রিকা মহাদেশ ও পশ্চিমে আটলান্টিক দক্ষিণ-পূর্বাংশের ভারত মহাসাগরের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
৫. ইন্দো অস্ট্রেলিয়ান পাত : অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ও ভারত মহাসাগরের অংশবিশেষ এর অন্তর্গত।
৬. আন্টার্কটিকা পাত : স্থলভাগের চারপাশে বেষ্টিত সমুদ্রসহ সমগ্র আন্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে গঠিত।
৭. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত : প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে এর বিস্তার।
পৃথিবী পৃষ্ঠ এরকম ৬ টা বড়ো পাত এবং ২০টা ছোটো পাতের সমন্বয়ে
পাতগুলো গঠিত) (বড়ো প্রশান্তমহাসাগরীয় পাত, ইউরেশীয় পাত, আমেরিকান পাত, আফ্রিকান
পাত, ভারত-অস্ট্রেলীয় পাত এবং আন্টার্কটিক পাতা
'গ্রিক শব্দ 'Tekton' এর অর্থ গঠন করা। ১৯৬৫ সালে কানাডার ভূপদার্থবিদ (J.T. Wilson 'প্লেট' শব্দটা প্রথম প্রয়োগ করেন।
১৯৬৭ সালে ম্যাকেঞ্জি এবং পার্কার পাতের চলন (Plate movement) এ সম্পর্কে তথ্য দেন।
(১৯৫৮ সালে W.J. Morgan এবং লা পিঁচো (Le Pichon) পাত সংস্থানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
প্রশ্ন: পাত (Plate) কী ?
উত্তর: পৃথিবীর বাইরের আবরণটা (লিথোস্ফিয়ার) কতকগুলো শক্ত (Rigid) ও কঠিন (Solid) খণ্ডে বিভক্ত। অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের উপর ভাসমান এই খণ্ডগুলিকে বলে পাত (Plate)। পাতগুলোর আয়তন অনেক বেশি কিন্তু বেধ কম। মহাদেশ, মহাসাগর অথবা মহাদেশ ও মহাসাগর দুরকম অংশ নিয়ে পাত গঠিত হতে পারে। মহাসাগরীয় পাতের চেয়ে মহাদেশীয় পাত বেশি পুরু।
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠের ৬টি বড়ো পাতের নাম করো।
উত্তর: ৬টি বড়ো পাত হল – ১ প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, ২) ইউরেশীয় পাত, ৩) আমেরিকান পাত, ৪ আফ্রিকান পাত, ৫ ভারত-অস্ট্রেলীয় পাত এবং (৬) আন্টার্কটিক পাত।
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠের মাঝারি পাতগুলির নাম লেখো।
উত্তর ভূপৃষ্ঠের মাঝারি পাতগুলি হল – চিন, ফিলিপাইন, ৩ আরবীয়, ও ইরান, ৫ নাজকা, কোকোস, ও ক্যারিবিয়ান, ৮ স্কোশিয়া।
প্রশ্ন: অপসারী পাত সীমানা কাকে বলে ?
উত্তর: যে সীমারেখা বরাবর পাতগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে তাকে অপসারী পাত সীমানা বলে। এই সীমানায় পলি সঞ্জয় ঘটে এবং ভূমিরূপ গঠন হয় বলে একে গঠনকারী পাত সীমানাও বলে।
প্রশ্ন: অভিসারী পাত সীমানা কাকে বলে?
উত্তর: যে সীমারেখা বরাবর পাতগুলো পরস্পরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তাকে অভিসারী পাত সীমানা বলে। এই সীমানায় ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি ঘটে বলে একে বিনাশকারী সীমানাও বলে।
অভিসারী পাত সীমানা
প্রশ্ন: ট্রান্সফর্ম পাত সীমানা কাকে বলে ?
উত্তর: যে সীমানা বরাবর পাতগুলো পরস্পরের সমান্তরালে, পাশাপাশি সঞ্চারিত হয় তাকে ট্রান্সফর্ম পাত সীমানা বলে। এই সীমানায় গঠন বা বিনাশ ঘটে না বলে একে নিরপেক্ষ সীমানাও বলে।
প্রশ্ন: হিমালয় পর্বতমালা ও আল্পস পর্বতমালা কোন্ কোন্ পাতের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: ইউরেশীয় ও ভারতীয়—এই দুই মহাদেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে হিমালয় পর্বতমালা। আফ্রিকা ও ইউরেশীয় এই দুই মহাসাগরীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে আল্পস পর্বতমালা।
প্রশ্ন: প্যানজিয়া কী?
উত্তর: আজ থেকে প্রায় ৫০ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একত্রে একটি বৃহদাকার মহাদেশ বা ভূখন্ডরূপে অবস্থান করত। একে বলা হয় প্যানজিয়া। Pan = All, সমস্ত Gia = স্থলভাগ অর্থাৎ Pangia= সব মহাদেশ।
প্রশ্ন: প্যানথালাসা কী?
উত্তর: প্যানজিয়াকে কেন্দ্র করে একসময় পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগর একত্রে একটি বৃহদাকার জলাশয় বা মহাসাগর রূপে অবস্থান করত। একে বলা হয় প্যানথালাসা। Pan = সমস্ত, Thalasa = sea.
প্রশ্ন: পরিচলন স্রোত কী?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে তাপের তীব্র অসমতার কারণে গুরুমণ্ডলের ঊর্ধ্ব অংশ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে যে তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, তাকে পরিচলন স্রোত বলে। এই স্রোতের ফলে ভূপৃষ্ঠের পাতগুলি পরস্পরের দিকে, বিপরীতে পাশাপাশি চলমান হয়।
প্রশ্ন: অপসারী পাতকে গঠনকারী পাত সীমানা বলা হয় কেন?
উত্তর: যে পাতগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় তাকে অপসারী পাত সীমানা (Divergent plate margin) বলে। মহাসাগরীয় দুটো পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে গেলে মাঝের ফাটল বরাবর ভূগর্ভের গলিত পদার্থ (ম্যাগমা) বেরিয়ে আসে এবং শীতল ও কঠিন হয়ে মহাসাগরীয় নতুন
ত্বক ও মধ্য-সামুদ্রিক শৈলশিরা (Mid-oceanic ridge) গঠিত হয়। এই কারণেই অপসারী পাত সীমানাকে বলা হয় গঠনকারী পাত সীমানা (Constructive plate margin) |
প্রশ্ন: নিমজ্জিত পাত সীমানায় একাধিক আগ্নেয়গিরি এবং আগ্নেয় দ্বীপ সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর: মহাসাগরীয় ও মহাদেশীয় পাত পরস্পরের দিকে চলনের ফলে, ভারী মহাসাগরীয় পাত হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে নিমজ্জিত হয়। ফলে সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রখাত।
যেমন—প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত। নিমজ্জিত পাতের কিছু অংশ প্রবেশ করে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে এবং গলতে শুরু করে। দুটো পাত বরাবর এই গলিত পদার্থ ভূত্বকের বাইরে চলে আসে। এই কারণে নিমজ্জিত পাত সীমানায় (Subduction plate margin) একাধিক আগ্নেয়গিরি এবং আগ্নেয় দ্বীপ সৃষ্টি হয়। যেমন—ভারতের ব্যারেন দ্বীপ।
প্রশ্ন: অভিসারী পাত সীমানাকে বিনাশকারী পাতসীমানা বলা হয় কেন?
উত্তর: যেখানে পাতগুলো পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয় তাকে অভিসারী পাতসীমানা বলে। মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় পাত পরস্পরের দিকে চললে ভারী মহাসাগরীয় পাত হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে নিমজ্জিত হয়। ফলে তৈরি হয় গভীর সামুদ্রিক খাত। যেমন – প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত। নিমজ্জিত পাতের কিছু অংশ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে প্রবেশ করে গলতে থাকে। এই গলিত পদার্থ দুটি পাতের সীমানা বরাবর ভূত্বকের বাইরে চলে আসে। ফলে নিমজ্জিত পাত সীমানায় একাধিক আগ্নেয়গিরি ও আগ্নেয় দ্বীপ সৃষ্টি হয়। ভূ-ত্বকের এই অংশ অস্থিত থাকায় প্রায়ই ভূ-আলোড়ন ও ভূমিকম্প হয়। তাই এই ধরনের পাত সীমানাকে বিনাশকারী পাত সীমানা (Destructive Plate margin) বলে।
প্রশ্ন: ‘ট্রান্সফর্ম পাত সীমানাকে নিরপেক্ষ বা সংরক্ষণশীল পাত সীমানা বলে।' –কেন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ট্রান্সফর্ম পাত সীমানায় পাতগুলো পরস্পরের সমান্তরালে পাশাপাশি সঞ্চারিত হওয়ায়, এই ধরনের পাত সীমানায় কোনো নতুন ভূত্বক সৃষ্টি হয় না, আবার পুরোনো ভূত্বক ধ্বংসও হয় না। সেই কারণে ট্রান্সফর্ম পাত সীমানাকে নিরপেক্ষ বা সংরক্ষণশীল পাত সীমানা বলা হয়। উদাহরণ – ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রিজ চ্যুতি।
প্রশ্ন: ভূত্বক পৃথিবীর সর্বত্র সুস্থিত (stable) অবস্থায় নেই। – কেন?
উত্তর: ভূত্বক পৃথিবীর সর্বত্র সুস্থিত অবস্থায় থাকে না। কারণ পৃথিবীর ওপরটা তাপ বিকিরণ করে শীতল হলেও ভেতরটা তখনও গরম তাই ভূত্বকের কোথাও না কোথাওঅবিরাম পরিবর্তন ঘটে চলেছে। ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পাত সঞ্চরণ এগুলো হল অভ্যন্তরীণ শক্তি। ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলি ধীরগতিতে কখনো-কখনো অনুভূমিক আলোড়ন (মহীভাবক) কখনও-বা উল্লম্ব আলোড়ন (গিরিজনি) সৃষ্টি করে; আবার কখনও আকস্মিকভাবে অগ্ন্যুৎপাত, ভূকম্প ঘটায়; এইসব শক্তির প্রভাবে ভূত্বকে অনবরত ক্ষয় ও সৃষ্টির কাজ চলছে। এই ভূত্বক সুস্থিত অবস্থায় নেই।
প্রশ্ন: পাত (plate)
উত্তর সংজ্ঞা : পৃথিবীর বাইরের আবরণ ভূত্বক(লিথোস্ফিয়ার) কতকগুলো শক্ত (Rigid) ও কঠিন (Solid)
পুরু খণ্ডে বিভক্ত, এদের পাত (plate) বলে।
পাত শব্দের প্রথম প্রয়োগ : ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাত (plate) শব্দটা প্রথম প্রয়োগ করেন কানাডার ভূপদার্থবিদ JT Wilson |
আয়তন ও বেধ : পাতগুলোর আয়তন অপেক্ষা বেধ (Thickness) কম হয়।
গঠন : মহাদেশ, মহাসাগর অথবা মহাদেশ ও মহাসাগর এই দুরকম অংশ নিয়ে পাত গঠিত হতে পারে। মহাসাগরীয় পাতের চেয়ে মহাদেশীয় পাত বেশি পুরু।
সংখ্যা : পৃথিবীপৃষ্ঠ ৬টা বড়ো পাত এবং ২০টি ছোটো পাতের সমন্বয়ে গঠিত। বড়ো পাতগুলো হল প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, ইউরেশীয় পাত, আমেরিকান পাত, আফ্রিকান পাত, ভারত-অস্ট্রেলিয়ান এবং আন্টার্কটিকা পাত।
প্রশ্ন: মহীসঞ্চরণ
উত্তর: মহীসঞ্চরণ : সংজ্ঞা : 'মহী' কথার অর্থ মহাদেশ এবং সঞ্চরণ করার অর্থ চলাচল। সুতরাং মহাদেশগুলোর চলাচলকে বলা হয় মহীসঞ্চরণ।
প্রক্রিয়া : আলফ্রেড ওয়েগনারের মহীসারণ তত্ত্ব (Continental Drift Theory) থেকে জানা যায় ২৩০০
লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একটি বিশাল ভূখণ্ডরূপে অবস্থান করত যার নাম ছিল প্যানজিয়া পরবর্তীকালে প্যানজিয়া ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন দিকে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ মহাদেশীয় ভূত্বক (SIAL) বিভিন্নভাবে মহাসাগরীয় ভূত্বকের (SIMA) ওপর ভাসতে ভাসতে বিভিন্ন দিকে অগ্রসর হয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মহীসরণের ফলে মহাদেশগুলোতে বর্তমানের এই বিন্যাস লক্ষ করা যায়।
প্রশ্ন: অভিসারী পাত সীমানা
সংজ্ঞা : যে সীমানা বরাবর পাতগুলো পরস্পরের দিকে এগোতে থাকে, তাকে অভিসারী পাত সীমানা বলে।
কার্যকারিতা : মহাসাগরীয় ও মহাদেশীয় পাত-এর পরস্পর অভিমুখে চলার ফলে মহাসাগরীয় ভারী পাত
মহাসাগরীয় হালকা পাতের নীচে নিমজ্জিত হয়।
ফলাফল : [১] এর ফলে গভীর সমুদ্রখাতের সৃষ্টি হয়। যেমন—প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত। এটি পৃথিবীর গভীরতম খাত।
পৃথিবীর উচ্চতম সুপ্ত আগ্নেয়গিরি - আন্দ্রিজ পর্বতে চিলির লুলাইলাকো (উচ্চতা ৬৭২৩ মিটার)
২. পৃথিবীর উচ্চতম মৃত আগ্নেয়গিরি - আন্দ্রিজ পর্বতের চিলির গুয়ালাতিরি (উচ্চতা ৬০৬০ মিটার)
এ পৃথিবীর বৃহত্তম লাভা মালভূমি - সাইবেরিয়ার লাভা মালভূমি
এ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম লাভা মালভূমি - ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির ডেকানট্র্যাপ
১৪৪-৬০ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটাসিয়াস থেকে ইয়োসিন পর্বে মেসোজোয়িক ও সিনোজোয়িক যুগে সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রশ্ন: অগ্ন্যুদগম কাকে বলে?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের গলিত সান্দ্র ম্যাগমা, বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয় বাষ্প কোনো ফাটল বা গহ্বরের মধ্য দিয়ে শান্তভাবে বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বেরিয়ে আসার পদ্ধতিকে অগ্ন্যুদগম বলে।
প্রশ্ন: আগ্নেয় পর্বত কাকে বলে ?
উত্তর: অগ্ন্যুৎপাতের সময় উৎক্ষিপ্ত পদার্থ ফাটল বা গহ্বরের চারদিকে সঞ্চিত হয়। বার বার অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয় পদার্থ সঞ্চিত হতে হতে শঙ্কু (cone) আকৃতির যে পর্বত গঠন করে তাকে আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) বলে। যেমন – ভারতের ব্যারেন।
প্রশ্ন: লাভা মালভূমি কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের দীর্ঘ ফাটল বা বিদার (Fissure) বরাবর যদি বিস্ফোরণ ব্যতীত শান্তভাবে লাভা নির্গত হয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সঞ্জিত হয়ে যে মালভূমি গঠন করে, তাকে লাভা মালভূমি বলে। যেমন— ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি।
প্রশ্ন: ১.৫ 'আ আ' বা 'aa' কাকে বলে?
উত্তর: ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি থেকে একরকম গাঢ়, সান্দ্র লাভা নির্গত হয়। এই লাভা প্রচুর গ্যাস সমৃদ্ধ ও এর উপরিভাগ মসৃণ এবং পাকানো দড়ির মতো নকশাযুক্ত হয়। হাওয়াই দ্বীপের ভাষায় এর নাম আ আ' 'a a' । 'আ আ' লাভা
প্রশ্ন: অগ্ন্যুদ্গমকে ভূ-গাঠনিক প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?
উত্তর: অগ্ন্যুদ্গমের ফলে ভূপৃষ্ঠের দীর্ঘ ফাটল বরাবর লাভা নিঃসৃত হয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সঞ্চিত হয়ে লাভা মালভূমি বা লাভা সমভূমি গঠন করে। তাই অগ্ন্যুদ্গমকে ভূগাঠনিক প্রক্রিয়া বলা হয়।
প্রশ্ন: আত্মিক লাভা বলতে কী বোঝ?
উত্তর: যে লাভায় সিলিকার পরিমাণ বেশি, সাস্ত্র এবং নির্গমনের পর বহুদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হতে পারে, তাকে আগ্নিক লাভা বলে। আম্লিক লাভা শঙ্কু আকৃতির আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন: ক্ষারকীয় লাভা বলতে কী বোঝ?
উত্তর: যে লাভায় সিলিকার পরিমাণ কম, কম সান্দ্র এবং নির্গমনের পর ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে, তাকে ক্ষারকীয় লাভা বলে। এই লাভা সজ্জিত হয় শিল্ড আগ্নেয়গিরি তৈরি করে।
প্রশ্ন: প্লিউম কী ?
উত্তর: Hot Spot-এর ওপর অবস্থিত আগ্নেয়গিরির ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহকে বলা হয় প্রিউম। প্লিউম পথেই ফোয়ারার মতো অগ্ন্যুদ্গম ঘটে।
প্রশ্ন: বিদার অগ্ন্যুদ্গম কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের দীর্ঘ ফাটল বরাবর বিস্ফোরণ ছাড়া শান্তভাবে লাভা নিঃসৃত হয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঢেকে যায়। একে বিদার অগ্ন্যুদ্গম বলে।
প্রশ্ন: ‘পা হো হো' 'Pa hoe hoe' কাকে বলে?
উত্তর: ভিড হাওয়াই দ্বীপের আগ্নেয়গিরিগুলো থেকে অত্যন্ত মা পাতলা লাভা বেরিয়ে বহুদূর প্রবাহিত হয়, হাওয়াই দ্বীপের এ ভাষায় এর নাম 'পা হো হো' অথবা 'Pa hoe hoe' | পা হো হো
প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা
প্রশান্ত মহাসাগরকে দুপাশে পূর্ব-পশ্চিমে ঘিরে অবস্থিত প্রায় ৪০,০০০ বর্গ কিমি অঞ্চল পৃথিবীর সর্বাধিক অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ অঞ্চল, একে বলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আয়ে মেখলা (The Pacific ring of fire) সৃষ্টির কারণ : অঞ্চলটির উত্তর পূর্বাংশে নিরপেক্ষ পাত সীমানায় ও বাকি অংশ অভিসারী পাতসীমান্তে অবস্থিত তাই প্রতিনিয়ত পাত সঞ্চালনের কারণে এখানে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
বিস্তার : পূর্বে দক্ষিণ আমেরিকার হর্ণ অন্তরীপ থেকে আন্দ্রিজ পর্বত; উত্তর আমেরিকার রকি পর্বত জুড়ে ও পশ্চিমে অ্যালুউশিয়ান কামচাটকা, জাপান, ফিলিপাইনস্ দ্বীপপুঞ্জ হয়ে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত প্রসারিত।
বৈশিষ্ট্য
(১) পৃথিবীর ৮০ শতাংশ আগ্নেয়গিরি এখানে অবস্থিত। (২) বর্তমানে এই বলয়ে ৪৫২ টি আগ্নেয়গিরি
আছে যার মধ্যে ৫০ শতাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ৩ পৃথিবীর মোট ভূকম্পনের ৯৫ শতাংশ ভূকম্পনই এই আগ্নেয় বলয়ে
ঘটে। ৪ এখানে পূর্ব উপকূলে ১০৬টি ও পশ্চিম উপকুলে ৩০৪ টি আগ্নেয়গিরি আছে।
প্রশ্ন: Hot spot বা তপ্তবিন্দু
উত্তর সংজ্ঞা : ঊর্ধ্বগুরুমণ্ডল ও অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের সীমানায় তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতির কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে। একে বলে তপ্তবিন্দু বা Hot spot। এই তপ্তবিন্দু অঞ্চলে ম্যাগমা ফোয়ারার মতো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ভূত্বকে উঠে আসে ও অগ্ন্যুদ্গম ঘটায়। সাধারণত পাত সীমান্ত অঞ্চলের আশেপাশে ভূপৃষ্ঠে এরূপ তপ্তবিন্দু দেখা যায়।
বৈশিষ্ট্য : (১) তাপবিন্দুর ওপর আগ্নেয়গিরি অবস্থান করে। যেমন : হাওয়াই দ্বীপের মৌনালোয়া।
২) এই তাপবিন্দুগুলোর অবস্থান গুরুমণ্ডলেই নির্দিষ্ট। পাতের চলনে এদের অবস্থানের পরিবর্তন হয় না।
৩) পৃথিবীতে প্রায় ২১টি তাপবিন্দু আছে।
এর প্রভাবে মহাসমুদ্রে বহু আগ্নেয় দ্বীপ সৃষ্টি
প্রভাব : তাপবিন্দু থেকে ঊর্ধ্বমুখী পরিচলন স্রোতের মাধ্যমে ম্যাগমা নির্গত হয়। একে বলে প্লিউম। ফলে ভূত্বক ভেদ করে সৃষ্টি হয় আগ্নেয়গিরি। ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী প্রকারকে প্লিউম বলে।
প্রশ্ন: পাত সীমানায় অগ্ন্যুদ্গম হয় কেন ?
উত্তর: আমরা জানি, পাত সঞ্চরণের ফলেই অগ্ন্যুদ্গম হয়ে থাকে তিন ধরনের পাত সীমানাতেই। যেমন-
১ অভিসারী পাত সীমানা : এই পাত সীমানায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয়েছে।
[২] অপসারী পাত সীমানা : এক্ষেত্রে দুটি পাত অতি ধীরগতিতে পরস্পরের থেকে দূরে সরে যায় এবং মধ্যবর্তী ফাটল দিয়ে উত্তপ্ত ম্যাগমা বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুদ্গম সৃষ্টি করে।
তা নিরপেক্ষ পাত সীমানা : এক্ষেত্রে দুটি পাতের পাশাপাশি চলন হয় এবং তার ফলে যে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়, তার মধ্য দিয়ে ম্যাগমা বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুদ্গম ঘটায়। সুতরাং বলা যায় যে, অগ্ন্যুদ্গমের সঙ্গে পাত সীমানার গভীর সম্পর্ক বর্তমান।
প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরি কাকে বলে ? আগ্নেয়গিরি কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার আগ্নেয়গিরির বিবরণ দাও।
আগ্নেয়গিরির সংজ্ঞা : ভূপৃষ্ঠের কোনো ছিদ্র বা ফাটল দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের গলিত পদার্থ বেরিয়ে এসে ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে জমাট বাঁধলে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে। আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ : আগ্নেয়গিরিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: ১ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, ২ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং (৩) মৃত আগ্নেয়গিরি।
১ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano) : যে আগ্নেয়গিরি থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই প্রকার। যথা:
অবিরাম আগ্নেয়গিরি (Incessant Volcano) : যে আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরাম অগ্ন্যুৎপাত ঘটে তাকে বলে অবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন— ইটালির ভিসুভিয়াস, হাওয়াই দ্বীপের মৌনালোয়া ।
সবিরাম আগ্নেয়গিরি (Intermittent Volcano) : যে আগ্নেয়গিরি থেকে কিছুদিন অন্তর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে তাকে বলে সবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন—ইটালির সিসিলি দ্বীপের স্ট্রম্বোলি।
সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano) : যে আগ্নেয়গিরি থেকে বর্তমানে অগ্ন্যুৎপাত না হলেও ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে পারে এমন সম্ভাবনা থাকলে সেই আগ্নেয়গিরিকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন—জাপানের ফুজিয়ামা, ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া এবং ইটালির ভিসুভিয়াস।
মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct or Dead Volcano) : অতীতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে কিন্তু ভবিষ্যতে আর অগ্ন্যুৎপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই এমন আগ্নেয়গিরিকে মৃত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন— মায়ানমারের পোপো এবং হাওয়াই দ্বীপের মৌনাকিয়া।
প্রশ্ন: ভূমিকম্প কাকে বলে?
উত্তর কোনো প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক কারণে হঠাৎ করে যখন ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশ কেঁপে ওঠে, তখন সেই কম্পনকে বলা হয় ভূমিকম্প।
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কেন্দ্র কাকে বলে?
উত্তর ভূপৃষ্ঠের নীচে ভূ-অভ্যন্তরের যে কেন্দ্র বা অঞ্চল থেকে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গভীরতা হয় সাধারণত ৫০-১০০ কিমি।
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র কাকে বলে?
উত্তর
ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে ঠিক সোজাসুজি ওপরে অবস্থিত স্থানটিকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বলে। উপকেন্দ্র থেকে আশেপাশে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন: মধ্য মহাদেশীয় বলয় কাকে বলে?
উত্তর মেক্সিকো থেকে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর, আল্পস, ককেশাস, হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমিকম্প বলয়কে মধ্য মহাদেশীয় বলয় বলে।
প্রশ্ন: সুনামি কী?
উত্তর ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্র তলদেশে প্রবল ঢেউয়ের উৎপত্তি ঘটে, যা উপকূল অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস রূপে আছড়ে পড়ে। জাপানি ভাষায় একে সুনামি বলে।
প্রশ্ন: ভারতের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলির নাম লেখো।
ত্তর ভূ-কম্পনের মাত্রা অনুযায়ী ভারতের ভূমিকম্প প্রব অঞ্চলগুলিকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন— ১ প্রবল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল : উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চল, কচ্ছ উপদ্বীপীয় অঞ্চল।
অধিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল : জম্মু ও কাশ্মীর উত্তরাখণ্ড, বিহার, পশ্চিম হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল।
[৩] মাঝারি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল : লাক্ষাদ্বীপ, আন্দামান- নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশ।
৪ অল্প ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল : ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান প্রভৃতি।
৫ অতি অল্প ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল : জয়পুর, যোধপুর দণ্ডকারণ্য, তামিলনাড়ু প্রভৃতি।
প্রশ্ন: ভূকম্পন কী কী কারণে সৃষ্টি হয় তা উল্লেখ করো।
উত্তর ভূ-অভ্যন্তরীণ বিশেষ পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর কার্বন ভূত্বক ক্ষণিকের জন্য আকস্মিকভাবে যখন কেঁপে ওঠে তাকে বলে ভূমিকম্প।
ভূকম্পন সৃষ্টির কারণগুলি নিম্নরূপ
[১] ভূ-আলোড়ন : পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগে উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমার রাসায়নিক বিক্রিয়া ও আণবিক পরিবর্তনের জন্য আকস্মিকভাবে মহিভাবক ও গিরিজনি আলোড়নে মাঝে মাঝে প্রসারিত হয়। গুরুমণ্ডলে ম্যাগমার আয়তনও অবস্থাগত পরিবর্তনে ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রভাবে ভূত্বক মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠে।
[২] শিলাচ্যুতি : শিলাস্তরে অত্যধিক চাপের কারণে টান বা পীড়নের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে চ্যুতিতল বরাবর শিলা ফেটে যায়; শিলাচ্যুতি ঘটে। চুতিতলের ঘর্ষণে এভাবে চাপের মুক্তি ঘটার কারণেও মাঝে মাঝে ভূকম্পণ ঘটে।
অগ্ন্যুৎপাত : ভূগর্ভে উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা মাঝে মাঝে প্রবল বিস্ফোরণসহ ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয়। কখনো
কখনো ভূ-অভ্যন্তরীণ বাষ্পরাশির চাপে ম্যাগমা গহ্বরের ম্যাগমা ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করে। আবার ম্যাগমা
চেম্বারে শূন্যস্থান সৃষ্টি হলেও ধস সৃষ্টি হয়। উপরোক্ত যে-কোনো কারণ বা অবস্থা সৃষ্টি হলেই ভূকম্পন অনুভূত হতে পারে।
পাতসঞ্চারণ : সমগ্র পৃথিবীই গরমে কতকগুলি পাতের সঞ্চরণ ভূগর্ভের উপাদানসমূহ প্রচণ্ড গরমে গলনাঙ্কের কাছাকাছি থাকে। কোনো কারণে উপাদানসমূহের প্রকৃতিগত পরিবর্তন ঘটলে বা উত্তাপের পরিবর্তন ঘটলে ম্যাগমার মধ্যে অন্তর্মুখী বা বর্হিমুখী প্রবাহ সৃষ্টি হয়। একে বলে পরিচলন স্রোত। এর প্রভাবে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে ভেসে থাকা পাতগুলি পারস্পরিকভাবে কখনও নিজেদের দিকে কখনোবা বিপরীত চলাচল শুরু করে। ফলে ভূপৃষ্ঠ কম্পন অনুভূত হয়।
নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে : ভাঁজযুক্ত শিলায় গঠিত ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলসমূহ আজও সুস্থিত অবস্থায় নেই। তাই মাঝে মাঝেই পাললিক শিলাস্তরে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হয় ও ভূকম্পন অনুভূত হয়।
অন্যান্য কারণ : (ক) পাহাড়ি অঞ্চলে হিমানী সম্প্রপাত ঘটলে, (খ) চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে গুহার ছাদ ধসে পড়লে, (গ) বিশালাকার উল্কা ধূমকেতু মহাকাশ থেকে সজোরেভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়লে, (ঘ) সুনামি বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের আগে ও পরে, (ঙ) জলপ্রপাত বিপুল জলরাশিসহ স্থান পরিবর্তন করলে, (চ) মানব সৃষ্ট বাঁধ ও জলাধার নির্মাণের সময় শিলাচ্যুতি ঘটলে, (ছ) ডিনামাইট চার্জ করে পাইপ লাইন নির্মাণ বা খনিজ উত্তোলনের সময়, (জ) পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার সময় ও ভূকম্পন সৃষ্টি হতে পারে।
