BREAKING

আপনার যা প্রয়োজন এখানে সার্চ করুন

শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৪

বুধুয়ার পাখি - অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত | দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা বুধুয়ার পাখি

আজ আমি আপনাদের এই পোস্টের মাধ্যমে দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা: বুধুয়ার পাখি, কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত লেখা কবিতাটি শেয়ার করছি। কবিতাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন|

বুধুয়ার পাখি - অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত | দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা বুধুয়ার পাখি
বুধুয়ার পাখি - অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত


বুধুয়ার পাখি
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

জানো এটা কার বাড়ি? শহুরে বাবুরা ছিল কাল,

ভীষণ শ্যাওলা এসে আজ তার জানালা দেয়াল

ঢেকে গেছে, যেন ওর ভয়ানক বেড়ে গেছে দেনা,

তাই কোনো পাখিও বসে না।

এর চেয়ে আমাদের কুঁড়েঘর ঢের ভালো, ঢের

দলে-দলে নীল পাখি নিকোনো নরম উঠোনের

ধান খায়, ধান খেয়ে যাবে...

বুধুয়া অবাক হয়ে ভাবে।

এবার রিখিয়া ছেড়ে বাবুড়ির মাঠে

বুধুয়া অবাক হয়ে হাঁটে,

দেহাতি পথের নাম ভুলে

হঠাৎ পাহাড়ে উঠে পাহাড়ের মতো মুখ তুলে

ভাবে : ওটা কার বাড়ি, কার অত নীল,

আমার ঘরের চেয়ে আরো ভালো, আরো

নিকোনো উঠোন তার, পাখিবসা বিরাট পাঁচিল।

ওখানে আমিও যাব, কে আমায় নিয়ে যেতে পারো?

এইভাবে প্রতিদিন বুধুয়ার ডাকে

কানায় কানায় আলো পথের কলশে ভরা থাকে,

ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখি আসে, কেউ তার দিদি, কেউ মাসি,

রুপোলি ডানায় যারা নিয়ে যায় বুধুয়ার হাসি ।


কবি পরিচিতি

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত (১৯৩৩-২০২০) : জন্ম কলকাতায়। পড়াশুনো করেছেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, প্রেসিডেন্সি কলেজ, ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। একালের বিখ্যাত কবি ও প্রাবন্ধিক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। পরে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ইংরেজি ও জার্মান ভাষাতেও তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—‘যৌবন বাউল', ‘নিষিদ্ধ কোজাগরী’, ‘রক্তাক্ত ঝরোখা’, ‘গিলোটিনে আলপনা’, ‘জ্বরের ঘোরে তরাজু কেঁপে যায়’, ‘এক একটি উপভাষায় বৃষ্টি পড়ে’ইত্যাদি। ‘ধুলো মাখা ঈথারের জামা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ এবং ‘মরমী করাত’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কার পান। বহু প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন, অনুবাদ করেছেন গ্যোয়টে, ব্রেশট সহ বহু জার্মান কবির কবিতা ও নাটক। জার্মানির ‘গ্যোয়টে পুরস্কার’, ‘আনন্দ পুরস্কার’ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সুধা বসু পুরস্কার’ পেয়েছেন।


ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৪

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি - শঙ্খ ঘোষ | দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

আজ আমি আপনাদের এই পোস্টের মাধ্যমে দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা: আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি, কবি শঙ্খ ঘোষ লেখা কবিতাটি শেয়ার করছি। কবিতাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন|ai aro bandha bandha thaki . sankha ghosh

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি -  শঙ্খ ঘোষ | দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
শঙ্খ ঘোষ

আমাদের ডান পাশে ধ্বস

আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ

আমাদের মাথায় বোমারু

পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ

আমাদের পথ নেই কোনো

আমাদের ঘর গেছে উড়ে

আমাদের শিশুদের শব

ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!

আমরাও তবে এইভাবে

এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?

আমাদের পথ নেই আর

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।

আমাদের ইতিহাস নেই

অথবা এমনই ইতিহাস

আমাদের চোখমুখ ঢাকা

আমরা ভিখারি বারোমাস

পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে

পৃথিবী হয়তো গেছে মরে

আমাদের কথা কে-বা জানে

আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।

কিছুই কোথাও যদি নেই

তবু তো কজন আছি বাকি

আয় আরো হাতে হাত রেখে

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।



কবি পরিচিতি

শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১):, অধুনা বাংলাদেশের বরিশালে। আধুনিক বাংলাসাহিত্যের একজন প্রধান কবি, প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক। পড়াশুনো প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দিনগুলি রাতগুলি’। ‘নিহিত পাতাল ছায়া', 'বাবরের প্রার্থনা’, ‘পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ’, ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয়’, ‘ধুম লেগেছে হৃৎ কমলে’, ‘গোটা দেশজোড়া জউঘর’, ‘প্রতি প্রশ্নে কেঁপে ওঠে ভিটে’, ‘হাসিখুশি মুখে সর্বনাশ' ইত্যাদি। ছোটোদের জন্য লিখেছেন—'ছোট্ট একটা স্কুল’, ‘অল্পবয়স কল্পবয়স’, ‘সকালবেলার আলো’, ‘সুপুরিবনের সারি’, ‘শহর পথের ধুলো’ ইত্যাদি। ‘কুন্তক’ ছদ্মনামে লিখেছেন ‘শব্দ নিয়ে খেলা’ ও ‘কথা নিয়ে খেলা'। প্রবন্ধের বই হিসেবে ‘কালের মাত্রা ও রবীন্দ্র নাটক’, ‘ছন্দোময় জীবন’, ‘ভিন্ন রুচির অধিকার’, ‘এই শহরের রাখাল’, ‘ঐতিহ্যের বিস্তার’, ‘এ আমির আবরণ’, ‘ছন্দের বারান্দা' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কবির প্রাপ্ত নানা পুরস্কারের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, রবীন্দ্র পুরস্কার, কবীর সম্মান, সরস্বতী সম্মান এবং পদ্মভূষণ।

ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৪

অসুখী একজন - পাবলো নেরুদা | দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা অসুখী একজন

আজ আমি আপনাদের এই পোস্টের মাধ্যমে দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা: অসুখী একজন, কবি পাবলো নেরুদার লেখা কবিতাটি শেয়ার করছি। কবিতাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন| Asukhi ekajana pablo neruda

অসুখী একজন - পাবলো নেরুদা | দশম শ্রেণীর বাংলা কবিতা অসুখী একজন
অসুখী একজন - পাবলো নেরুদা

অসুখী একজন

পাবলো নেরুদা

আমি তাকে ছেড়ে দিলাম

অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দরজায়

আমি চলে গেলাম দূর... দূরে।

সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না।

একটা কুকুর চলে গেল, হেঁটে গেল গির্জার এক নান

একটা সপ্তাহ আর একটা বছর কেটে গেল।

বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ

ঘাস জন্মালো রাস্তায়

আর একটার পর একটা, পাথরের মতো

পর পর পাথরের মতো, বছরগুলো

নেমে এল তার মাথার ওপর।

তারপর যুদ্ধ এল

রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো।

শিশু আর বাড়িরা খুন হলো।

সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।

সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন

শান্ত হলুদ দেবতারা

যারা হাজার বছর ধরে

ডুবে ছিল ধ্যানে

উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে

তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।

সেই মিষ্টি বাড়ি, সেই বারান্দা

যেখানে আমি ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমিয়েছিলাম,

গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা

চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ

সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে।

যেখানে ছিল শহর

সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা

দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা

রক্তের একটা কালো দাগ।

আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়



কবি পরিচিতি

পাবলো নেরুদা (১৯০৪/১৯৭৩) : প্রখ্যাত কবি, কূটনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা চিলির সীমান্ত শহর পারলেতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম নেকতালি রিকার্দো রেয়েন্স বাসোয়ালতো) ‘পাবলো নেরুদা’ নামটির উৎসচেক লেখক জাঁ নেরুদা এবং পাবলো নামটির সম্ভাব্য উৎস পাবলো পিকাসো। মানুষের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে তিনি যেমন কবিতা লিখেছেন, তেমনই লিখেছেন ঐতিহাসিক মহাকাব্য, প্রকাশ্য রাজনৈতিক ইস্তাহার। ১৯২৭ সালে চিলির সরকার তাঁকে রাষ্ট্রদূত করে রেঙ্গুনে পাঠায়। এ পদে থেকে তিনি চিন, জাপান, কলম্বোসহ ভারতেও আসেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। চিলিতে অগাস্তো পিনোচেতের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভ্যুত্থানের সময় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হন নেরুদা। তিনদিন পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পরলোক গমন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— - ‘কুড়িটা প্রেমের কবিতা এবং একটি হতাশার গান’, ‘এ পৃথিবীর আবাসভূমি’, ‘প্রাণের স্পেন’, ‘বিশ্বসংগীত’, ‘চিলির পাথর’, ‘হোয়াকিন মুরিয়েতার গরিমা ও মৃত্যু’, ‘ক্যাপ্টেনের কবিতা', ‘শীতের বাগিচা’ ইত্যাদি।

ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৪

বহুরূপী - সুবোধ ঘোষ | দশম শ্রেণীর বাংলা গল্প বহুরূপী

আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি দশম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্য বইয়ের অন্তর্গত বহুরূপী গল্পটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। গল্পের নাম: বহুরূপী, গল্পের লেখক : সুবোধ ঘোষ | আজকে আমিদশম শ্রেণীর বহুরূপী গল্পটি সম্পূর্ণ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি এবং এই বহুরূপী গল্প সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর গুলো আমি আমাদের পরবর্তী পোস্টে দিয়ে দেব | এই পোস্টের নিচের লিংক দেওয়া থাকবে সেখান থেকে গিয়ে দশম শ্রেণীর বাংলা গল্প বহুরূপী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর দেখে নিতে পারবেন। bahurupi subodh ghosh

বহুরূপী -  সুবোধ ঘোষ | দশম শ্রেণীর বাংলা গল্প বহুরূপী
বহুরূপী -  সুবোধ ঘোষ

বহুরূপী
সুবোধ ঘোষ

হরিদার কাছে আমরাই গল্প করে বললাম, শুনেছেন, হরিদা, কী কাণ্ড হয়েছে?

উনানের মুখে ফুঁ দিয়ে আর অনেক ধোঁয়া উড়িয়ে নিয়ে হরিদা এইবার আমাদের কথার জবাব দিলেন – না, কিছুই শুনিনি।

— জগদীশবাবু যে কী কাণ্ড করেছেন, শোনেননি হরিদা?

হরিদা - না রে ভাই, বড়ো মানুষের কাণ্ডের খবর আমি কেমন করে শুনব? আমাকে বলবেই বা কে?

—সাতদিন হলো এক সন্ন্যাসী এসে জগদীশবাবুর বাড়িতে ছিলেন। খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী। হিমালয়ের গুহাতে থাকেন। সারা বছরে শুধু একটি হরীতকী খান; এ ছাড়া আর কিছুই খান না। সন্ন্যাসীর বয়সও হাজার বছরের বেশি বলে অনেকেই মনে করেন।

হরিদা—সন্ন্যাসী কি এখনও আছেন?

—না, চলে গিয়েছেন। আক্ষেপ করেন হরিদা— থাকলে একবার গিয়ে পায়ের ধুলো নিতাম।

— তা পেতেন না হরিদা ! সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস। শুধু ওই একা জগদীশবাবু ছাড়া আর কাউকে পায়ের ধুলো নিতে দেননি সন্ন্যাসী। হরিদা কেন?

- জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরলেন। তখন বাধ্য হয়ে সন্ন্যাসী পা এগিয়ে দিলেন, নতুন খড়ম পরলেন আর সেই ফাঁকে জগদীশবাবু পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন।

হরিদা বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার!

হ্যাঁ, তা ছাড়া সন্ন্যাসীকে বিদায় দেবার সময় জগদীশবাবু একশো টাকার একটা নোট জোর করে সন্ন্যাসীর ঝোলার ভেতরে ফেলে দিলেন। সন্ন্যাসী হাসলেন আর চলে গেলেন। গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা। অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। আমরা কী বলছি বা না বলছি, সেদিকে হরিদার যেন কান নেই।

হরিদার উনানের আগুন তখন বেশ গনগনে হয়ে জ্বলছে। আমাদের চায়ের জন্য এক হাঁড়ি ফুটন্ত জল নামিয়ে দিয়েই হরিদা তাঁর ভাতের হাঁড়িটাকে উনানে চড়ালেন।

শহরের সবচেয়ে সরু এই গলিটার ভিতরে এই ছোট্ট ঘরটাই হরিদার জীবনের ঘর; আর আমাদের চারজনের সকাল-সন্ধ্যার আড্ডার ঘর। চা চিনি আর দুধ আমরাই নিয়ে আসি। হরিদা শুধু তাঁর উনানের আগুনের আঁচে জল ফুটিয়ে দেন।

খুবই গরিব মানুষ হরিদা। কিন্তু কাজ করতে হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে। ইচ্ছে করলে কোনো অফিসের কাজ, কিংবা কোনো দোকানের বিক্রিওয়ালার কাজ পেয়ে যেতে পারেন হরিদা; কিন্তু ওই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয়। একেবারে ঘড়ির কাঁটার সামনে সময় বেঁধে দিয়ে আর নিয়ম করে নিয়ে রোজই একটা চাকরির কাজ করে যাওয়া হরিদার পক্ষে সম্ভব নয়। হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না। এই একঘেয়ে অভাবটাকে সহ্য করতে হরিদার আপত্তি নেই, কিন্তু একঘেয়ে কাজ করতে ভয়ানক আপত্তি।

হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে। আর, সেটাই যে হরিদার জীবনের পেশা। হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে যেটুকু রোজগার করেন, তাতেই তাঁর ভাতের হাঁড়ির দাবি মিটিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। মাঝে মাঝে সত্যিই উপোস করেন হরিদা। তারপর একদিন হঠাৎ আবার এক সকালে কিংবা সন্ধ্যায় বিচিত্র ছদ্মবেশে অপরূপ হয়ে পথে বের হয়ে পড়েন। কেউ চিনতে পারে না। যারা চিনতে পারে এক-আনা দু-আনা বকশিশ দেয়।

যারা চিনতে পারে না, তারা হয় কিছুই দেয় না, কিংবা বিরক্ত হয়ে দুটো-একটা পয়সা দিয়ে দেয়। একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল। একটা উন্মাদ পাগল; তার মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছে, চোখ দুটো কটকটে লাল। তার কোমরে একটা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো, গলায় টিনের কৌটার একটা মালা। পাগলটা একটা থান ইট হাতে তুলে নিয়ে বাসের উপরে বসা যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছে। চেঁচিয়ে উঠছে যাত্রীরা, দুটো একটা পয়সা ফেলেও দিচ্ছে।

একটু পরেই বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দেয়। —খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও।

অ্যাঁ? ওটা কি একটা বহুরূপী? বাসের যাত্রীরা কেউ হাসে, কেউ বা বেশ বিরক্ত হয়, কেউ আবার বেশ

বিস্মিত। সত্যিই, খুব চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে তো লোকটা।

হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে। এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা। সন্ধ্যার আলো সবেমাত্র জ্বলেছে, দোকানে দোকানে

লোকজনের ব্যস্ততা আর মুখরতাও জমে উঠেছে। হঠাৎ পথের উপর দিয়ে ঘুঙুরের মিষ্টি শব্দ রুমঝুম করে বেজে-বেজে চলে যেতে থাকে। এক রূপসি বাইজি প্রায় নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছে। শহরে যারা নতুন এসেছে,

তারা দুই চোখ বড়ো করে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলে - হরির কাণ্ড।

অ্যাঁ? এটা একটা বহুরূপী নাকি? কারও কারও মুগ্ধ চোখের মোহভঙ্গ হয়, আর যেন বেশ একটু হতাশস্বরে প্রশ্ন করে ওঠে।

বাইজির ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি। মোট আট টাকা দশ আনা পেয়েছিলেন। আমরাও দেখেছিলাম, এক-একটা দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই রূপসি বাইজি, মুচকি হেসে আর চোখ টিপে একটা ফুলসাজি এগিয়ে দিচ্ছে। দোকানদারও হেসে ফেলে আর একটা সিকি তুলে নিয়ে বাইজির হাতের ফুলসাজির উপর ফেলে দেয়। কোনোদিন বাউল, কোনোদিন কাপালিক। কখনও বোঁচকা কাঁধে বুড়ো কাবুলিওয়ালা, কখনও হ্যাট-কোট-পেন্টলুন-পরা ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব। একবার পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে

দাঁড়িয়েছিলেন হরিদা; স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরেছিলেন। ভয়ে কেঁদে ফেলেছিল ছেলেগুলো; আর স্কুলের মাস্টার এসে সেই নকল পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন—এবারের মতো মাপ করে দিন ওদের। কিন্তু আটআনা ঘুষ নিয়ে তারপর মাস্টারের অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন সেই নকল-পুলিশ হরিদা।

পরদিন অবশ্য স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের জানতে বাকি থাকেনি, কাকে তিনি আটআনা ঘুষ দিয়েছেন। কিন্তু মাস্টারমশাই একটুও রাগ করেননি। বরং একটু তারিফই করলেন—বা, সত্যি, খুব চমৎকার পুলিশ সেজেছিল হরি!

আজ এখন কিন্তু আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না, হরিদা এত গম্ভীর হয়ে কী ভাবছেন। সন্ন্যাসীর গল্পটা শুনে কি হরিদার মাথার মধ্যে নতুন কোনো মতলব ছটফট করে উঠেছে?

ঠিকই, আমাদের সন্দেহ মিথ্যে নয়। হরিদা বললেন—আজ তোমাদের একটা জবর খেলা দেখাব।

—আমাদের দেখিয়ে আপনার লাভ কি হরিদা? আমাদের কাছ থেকে একটা সিগারেটের চেয়ে বেশি কিছু তো পাবেন না।

হরিদা—না, ঠিক তোমাদের দেখাব না। আমি বলছি তোমরা সেখানে থেকো। তাহলে দেখতে পাবে...। —কোথায়?

হরিদা—আজ সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে।

—হঠাৎ জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাবার জন্যে আপনার এত উৎসাহ জেগে উঠল কেন?

হরিদা হাসেন—মোটা মতন কিছু আদায় করে নেব। বুঝতেই তো পারছ, পুরো দিনটা রূপ ধরে ঘুরে বেড়িয়েও দু-তিন টাকার বেশি হয় না। একবার বাইজি সেজে অবিশ্যি কিছু বেশি পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ওতেই বা কি হবে?

ঠিকই বলেছেন হরিদা। সপ্তাহে বড়োজোর একটা দিন বহুরূপী সেজে পথে বের হন হরিদা। কিন্তু তাতে সাতদিনের পেট চলবার মতো রোজগার হয় না।

হরিদা বলেন—নাঃ, এবার আর কাঙালের মতো হাত পেতে বকশিস নেওয়া নয়। এবার মারি তো গড়ার, লুটি তো ভাণ্ডার। একবারেই যা ঝেলে নেব তাতে আমার সারা বছর চলে যাবে।

কিন্তু সে কী করে সম্ভব? জগদীশবাবু ধনী মানুষ বটেন, কিন্তু বেশ কৃপণ মানুষ। হরিদাকে একটা যোগী সন্ন্যাসী কিংবা বৈরাগী সাজতে দেখে কত আর খুশি হবেন জগদীশবাবু? আর খুশি হলেই বা কত আনা বকশিশ দেবেন। পাঁচ আনার বেশি তো নয়।

হরিদা বলেন—তোমরা যদি দেখতে চাও, তবে আজ ঠিক সন্ধ্যাতে জগদীশবাবুর বাড়িতে থেকো।

আমরা বললাম—থাকব; আমাদের স্পোর্টের চাঁদা নেবার জন্যে আজ ঠিক সন্ধ্যাতেই জগদীশবাবুর কাছে যাব!

বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা। আমাদের শহরের গায়ে কতদিন তো চাঁদের আলো পড়েছে, কিন্তু কোনোদিন তো আজকের মতো এমন একটা স্নিগ্ধ ও শান্ত উজ্জ্বলতা কখনও চারদিকে এমন সুন্দর হয়ে ফুটে ওটেনি।

ফুরফুর করে বাতাস বইছে। জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানের সব গাছের পাতাও ঝিরিঝিরি শব্দ করে কী যেন বলতে চাইছে। জগদীশবাবুর বাড়ির বারান্দাতে মস্ত বড়ো একটা আলো জ্বলছে। সেই আলোর কাছে একটা চেয়ারের উপর বসে আছেন জগদীশবাবু। সাদা মাথা, সাদা দাড়ি, সৌম্য শান্ত ও জ্ঞানী মানুষ জগদীশবাবু।

আমরা আমাদের স্পোর্টের চাঁদার খাতাটিকে জগদীশবাবুর হাতে তুলে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

চমকে উঠলেন জগদীশবাবু। বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল।

আমরাও চমকে উঠেছি বইকি। আশ্চর্য হয়েছি, একটু ভয়ও পেয়েছি। কারণ, সত্যিই যে বিশ্বাস করতে পারছি

না, সিঁড়ির কাছে এসে যে দাঁড়িয়েছে, সে কি সত্যিই হরিদা? ও চেহারা কি সত্যিই কোনো বহুরূপীর হতে পারে? জটাজুটধারী কোনো সন্ন্যাসী নয়। হাতে কমণ্ডলু নেই, চিমটে নেই। মৃগচর্মের আসনও সঙ্গে নেই। গৈরিক সাজও নেই।

আদুড় গা, তার উপর একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। পরনে ছোটো বহরের একটি সাদা থান। মাথায় ফুরফুর করে উড়ছে শুকনো সাদা চুল। ধুলো মাখা পা, হাতে একটা ঝোলা, সে ঝোলার ভিতরে শুধু একটা বই, গীতা। গীতা বের করে কী-

-যেন দেখলেন এই আগন্তুক। তারপর নিজের মনেই হাসলেন।

আগন্তুক এই মানুষটি যেন এই জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে হেঁটে চলে এসেছেন। শীর্ণ শরীরটাকে প্রায় অশরীরী একটা চেহারা বলে মনে হয়। কী অদ্ভুত উদাত্ত শান্ত ও উজ্জ্বল একটা দৃষ্টি এই আগন্তুকের চোখ থেকে ঝরে পড়ছে!

উঠে দাঁড়ালেন জগদীশবাবু—আসুন।

আগন্তুক হাসেন—আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?

জগদীশবাবু কিছু ভেবে বলেন—কেন? কেন আপনি একথা কেন বলছেন মহারাজ?

আমি মহারাজ নই, আমি এই সৃষ্টির মধ্যে এককণা ধূলি। —কিন্তু আপনি বোধহয় এগারো লক্ষ টাকার সম্পত্তির অহংকারে নিজেকে ভগবানের চেয়েও বড়ো বলে মনে করেন। তাই ওখানেই দাঁড়িয়ে আছেন, নেমে আসতে পারছেন না।

সেই মূহূর্তে সিঁড়ি ধরে নেমে যান জগদীশবাবু। —আমার অপরাধ হয়েছে। আপনি রাগ করবেন না।

আগন্তুক আবার হাসেন—আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই। ছিল একদিন, সেটা পূর্বজন্মের কথা।

জগদীশবাবু—বলুন, এখন আপনাকে কীভাবে সেবা করব?

বিরাগী বলেন—ঠান্ডা জল চাই, আর কিছু চাই না।

ঠান্ডা জল খেয়ে নিয়ে হাঁপ ছাড়েন বিরাগী। এদিকে ভবতোষ আমার কানের কাছে ফিসফিস করে। —না না, হরিদা নয়। হতেই পারে না। অসম্ভব! হরিদার গলার স্বর এরকমেরই নয়। বিরাগী বলেন—পরম সুখ কাকে বলে জানেন? সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া!

ভবতোষের কানের কাছে মুখ এগিয়ে দিয়ে অনাদি বলে—শুনছো তো? এসব ভাষা কি হরিদার মুখের ভাষা হতে পারে?

জগদীশবাবু ততক্ষণে সিঁড়ির উপরে বসে পড়েছেন। বোধহয় বিরাগীর পা স্পর্শ করবার জন্যে তাঁর হাত দুটো ছটফট করতে শুরু করেছে। জগদীশবাবু বলেন—আমার এখানে কয়েকটা দিন থাকুন বিরাগীজি। আপনার

কাছে এটা আমার প্রাণের অনুরোধ। দুই হাত জোড় করে বিরাগীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন জগদীশবাবু।

বিরাগী হাসেন—

—বাইরে খোলা আকাশ থাকতে আর ধরিত্রীর মাটিতে স্থান থাকতে, আমি এক বিষয়ীর দালান বাড়ির ঘরে থাকব কেন, বলতে পারেন?

—বিরাগীজি! জগদীশবাবুর গলার স্বরের আবেদন করুণ হয়ে ছলছল করে।

বিরাগী বলেন—না, আপনার এখানে জল খেয়েছি, এই যথেষ্ট। পরমাত্মা আপনার কল্যাণ করুন। কিন্তু আপনার এখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

জগদীশবাবু—তবে অন্তত একটু কিছু আজ্ঞা করুন, যদি আপনাকে কোনো...।

বিরাগী—না না, আমি যার কাছে পড়ে আছি, তিনি আপনার চেয়ে কিছু কম নয়। কাজেই আপনার কাছে আমার তো কিছু চাইবার দরকার হয় না।

জগদীশবাবু—তবে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান বিরাগীজি, নইলে আমি শান্তি পাব না।

বিরাগী—ধন জন যৌবন কিছুই নয় জগদীশবাবু। ওসব হলো সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা। মন-প্রাণের সব আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু সেই একজনের আপন হতে চেষ্টা করুন, যাঁকে পেলে এই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া হয়ে

যায়। ...আচ্ছা আমি চলি।

জগদীশবাবু বলেন—আপনি একটা মিনিট থাকুন বিরাগীজি।

সিঁড়ির উপরে অচঞ্চল হয়ে একটা মিনিট দাঁড়িয়ে রইলেন বিরাগী। আজকের চাঁদের আলোর চেয়েও স্নিগ্ধ হয়ে এক জ্যোৎস্না যেন বিরাগীর চোখ থেকে ঝরে পড়ছে। ভবতোষ ফিসফিস করে—না না, ওই চোখ কি হরিদার চোখ হতে পারে? অসম্ভব!

জগদীশবাবুর হাতে একটা থলি। থলির ভিতরে নোটের তাড়া। বিরাগীর পায়ের কাছে থলিটাকে রেখে দিয়ে ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করেন জগদীশবাবু—এই প্রণামী, এই সামান্য একশো এক টাকা গ্রহণ করে আমাকে শান্তি দান করুন বিরাগীজি। আপনার তীর্থ ভ্রমণের জন্য এই টাকা আমি দিলাম।

বিরাগী হাসেন—আমার বুকের ভিতরেই যে সব তীর্থ। ভ্রমণ করে দেখবার তো কোনো দরকার হয় না। জগদীশবাবু—আমার অনুরোধ বিরাগীজি...।


বিরাগী বলেন—আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।

বলতে বলতে সিঁড়ি থেকে নেমে গেলেন বিরাগী। একশো এক টাকার থলিটা সিঁড়ির উপরেই পড়ে রইল।

সেদিকে ভুলেও একবার তাকালেন না বিরাগী।

—কী করছেন হরিদা কী হলো? কই? আজ যে বলেছিলেন জবর খেলা দেখাবেন, সে-কথা কি ভুলেই গেলেন।

আজকের সন্ধ্যাটা ঘরে বসেই কাটিয়ে দিলেন কেন?

বলতে বলতে আমরা সবাই হরিদার ঘরের ভিতরে ঢুকলাম।

হরিদার উনানের আগুন তখন বেশ গনগনে হয়ে জ্বলছে। উনানের উপর হাঁড়িতে চাল ফুটছে। আর, একটা বিড়ি ধরিয়ে নিয়ে হরিদা চুপ করে বসে আছেন। আমাদের দেখতে পেয়েই লজ্জিতভাবে হাসলেন।

—কী আশ্চর্য! চমকে ওঠে ভবতোষ। —হরিদা, আপনি তাহলে সত্যিই বের হয়েছিলেন! আপনিই বিরাগী? 

হরিদা হাসেন—হ্যাঁ রে ভাই।

ওই তো সেই সাদা উত্তরীয়টা পড়ে রয়েছে মাদুরের উপর, আর সেই ঝোলাটা আর সেই গীতা।

অনাদি বলে—এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা? জগদীশবাবু তো অত টাকা সাধলেন, অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন? হরিদা—কী করব বল? ইচ্ছেই হলো না। শত হোক...।

ভবতোষ—কী?

হরিদা—শত হোক, একজন বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা-ফাকা কী করে স্পর্শ করি বল? তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।

কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা! হরিদার একথার সঙ্গে তর্ক চলে না। আর, বুঝতে অসুবিধে নেই, হরিদার জীবনের ভাতের হাঁড়ি মাঝে মাঝে শুধু জল ফুটিয়েই সারা হবে। অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।

অনাদি বলে—কিন্তু আপনি কি জগদীশবাবুর কাছে গিয়ে আর কখনও...।

চেঁচিয়ে হেসে ওঠেন হরিদা—যাবই তো। না গিয়ে উপায় কী? গিয়ে অন্তত বকশিশটা তো দাবি করতে হবে?

—বকশিশ? চেঁচিয়ে ওঠে ভবতোষ। সেটা তো বড়োজোর আট আনা কিংবা দশ আনা।

হরিদা বিড়ি মুখে দিয়ে লজ্জিতভাবে হাসেন—কী আর করা যাবে বল? খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?



লেখক পরিচিতি:

সুবোধ ঘোষ (১৯১০ – ১৯৮০) : প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ বিহারের হাজারিবাগে জন্মগ্রহণ করেন। আদিনিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর মহকুমার বহর গ্রামে। বিচিত্র কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই লেখকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো—‘পরশুরামের কুঠার’, ‘শুক্লাভিসার’, ‘ফসিল’, ‘তিলাঞ্জলি’, ‘গঙ্গোত্রী’, ‘একটি নমস্কারে', ‘ত্রিযামা’, ‘ভারত প্রেমকথা’, ‘জতুগৃহ’, ‘কিংবদন্তীর দেশে’, ‘ভারতীয় ফৌজের ইতিহাস’, ‘ক্যাকটাস’ইত্যাদি। ছোটোগল্প ছাড়াও তিনি বহু উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী’ স্বর্ণপদক লাভ করেন।


ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৪

জ্ঞানচক্ষু - আশাপূর্ণা দেবী | দশম শ্রেণীর বাংলা গল্প জ্ঞানচক্ষু

আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি দশম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্য বইয়ের অন্তর্গত জ্ঞানচক্ষু গল্পটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। গল্পের নাম: জ্ঞানচক্ষু গল্পের লেখক : আশাপূর্ণ দেবী | আজকে আমি এই গল্পটি সম্পূর্ণ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি এবং এই জ্ঞানচক্ষু গল্প সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর গুলো আমি আমাদের পরবর্তী পোস্টে দিয়ে দেব | এই পোস্টের নিচের লিংক দেওয়া থাকবে সেখান থেকে গিয়ে দশম শ্রেণীর বাংলা গল্প জ্ঞানচক্ষু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর দেখে নিতে পারবেন। janchaksu ashapurna devi 

জ্ঞানচক্ষু - আশাপূর্ণা দেবী | দশম শ্রেণীর বাংলা গল্প জ্ঞানচক্ষু

জ্ঞানচক্ষু
আশাপূর্ণা দেবী

কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল!

নতুন মেসোমশাই, মানে যাঁর সঙ্গে এই কদিন আগে তপনের ছোটোমাসির বিয়ে হয়ে গেল দেদার ঘটাপটা করে, সেই তিনি নাকি বই লেখেন। সে সব বই নাকি ছাপাও হয়। অনেক বই ছাপা হয়েছে মেসোর।

তার মানে—তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক। সত্যিকার লেখক।

জলজ্যান্ত একজন লেখককে এত কাছ থেকে কখনো দেখেনি তপন, দেখা যায়, তাই জানতো না। লেখকরা যে তপনের বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতো মানুষ, এবিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।

কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।

আশ্চর্য, কোথাও কিছু উলটোপালটা নেই, অন্য রকম নেই, একেবারে নিছক মানুষ! সেই ওঁদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খেতে বসেই ‘আরে ব্যস, এত কখনো খাওয়া যায়?’ বলে অর্ধেক তুলিয়ে দেন, চানের সময় চান করেন এবং ঘুমের সময় ঘুমোন। তাছাড়া—

ঠিক ছোটো মামাদের মতোই খবরের কাগজের সব কথা নিয়ে প্রবলভাবে গল্প করেন, তর্ক করেন, আর শেষ পর্যন্ত ‘এ দেশের কিছু হবে না’ বলে সিনেমা দেখতে চলে যান, কী বেড়াতে বেরোন সেজেগুজে। মামার বাড়িতে এই বিয়ে উপলক্ষেই এসেছে তপন, আর ছুটি আছে বলেই রয়ে গেছে। ওদিকে মেসোরও না কী গরমের ছুটি চলছে। তাই মেসো শ্বশুরবাড়িতে এসে রয়েছেন কদিন। তাই অহরহই জলজ্যান্ত একজন লেখককে দেখবার সুযোগ হবেই তপনের। আর সেই সুযোগেই দেখতে পাচ্ছে তপন, ‘লেখক’ মানে কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব নয়, তপনদের মতোই মানুষ।

তবে তপনেরই বা লেখক হতে বাধা কী?

মেসোমশাই কলেজের প্রফেসার, এখন ছুটি চলছে তাই সেই সুযোগে শ্বশুরবাড়িতেই রয়ে গেছেন কদিন। আর সেই সুযোগেই দিব্যি একখানি দিবানিদ্রা দিচ্ছিলেন। ছোটোমাসি সেই দিকে ধাবিত হয়।

তপন অবশ্য ‘না আ-আ-’ করে প্রবল আপত্তি তোলে, কিন্তু কে শোনে তার কথা? ততক্ষণে তো গল্প ছোটোমেসোর হাতে চলেই গেছে। হইচই করে দিয়ে দিয়েছে ছোটোমাসি তাঁর ঘুম ভাঙিয়ে। তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয়। মুখে আঁ আঁ করলেও হয়। কারণ লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝলে নতুন মেসোই বুঝবে। রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।

একটু পরেই ছোটোমেসো ডেকে পাঠান তপনকে এবং বোধকরি নতুন বিয়ের শ্বশুরবাড়ির ছেলেকে খুশি করতেই বলে ওঠেন, ‘তপন, তোমার গল্প তো দিব্যি হয়েছে। একটু ‘কারেকশান’ করে ইয়ে করে দিলে ছাপতে দেওয়া চলে।' তপন প্রথমটা ভাবে ঠাট্টা, কিন্তু যখন দেখে মেসোর মুখে করুণার ছাপ, তখন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়।

‘তা হলে বাপু তুমি ওর গল্পটা ছাপিয়ে দিও—মাসি বলে, ‘মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা।'

মেসো তেমনি করুণার মূর্তিতে বলেন, ‘তা দেওয়া যায়! আমি বললে ‘সন্ধ্যাতারার’ সম্পাদক ‘না’ করতে পারবে না। ঠিক আছে; তপন, তোমার গল্প আমি ছাপিয়ে দেবো।'

বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে কথাটা।

আর সবাই তপনের গল্প শুনে হাসে। কিন্তু মেসো বলেন, 'না -না আমি বলছি তপনের হাত আছে। চোখও আছে। নচেৎ এই বয়সের ছেলেমেয়েরা গল্প লিখতে গেলেই তো—হয় রাজারানির গল্প লেখে, নয় তো—খুন জখম অ্যাকসিডেন্ট, অথবা না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া, এইসব মালমশলা নিয়ে বসে। তপন যে সেই দিকে যায়নি, শুধু ওর ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির বিষয় নিয়ে লিখেছে, এটা খুব ভালো। ওর হবে।'

তপন বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকায়।

তারপর ছুটি ফুরোলে মেসো গল্পটি নিয়ে চলে গেলেন। তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে। এই কথাটাই ভাবছে তপন রাত-দিন। ছেলেবেলা থেকেই তো রাশি রাশি গল্প শুনেছে তপন আর এখন বস্তা বস্তা পড়ছে, কাজেই গল্প জিনিসটা যে কী সেটা জানতে তো বাকি নেই?

শুধু এইটাই জানা ছিল না, সেটা এমনই সহজ মানুষেই লিখতে পারে। নতুন মেসোকে দেখে জানল সেটা। তবে আর পায় কে তপনকে?

দুপুরবেলা, সবাই যখন নিথর নিথর, তখন তপন আস্তে একটি খাতা (হোম টাস্কের খাতা আর কী! বিয়ে বাড়িতেও যেটি মা না আনিয়ে ছাড়েননি।) আর কলমটি নিয়ে তিনতলার সিঁড়িতে উঠে গেল, আর তোমরা বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, একাসনে বসে লিখেও ফেলল আস্ত একটা গল্প। লেখার পর যখন পড়ল, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের, মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল।

একী ব্যাপার!

এ যে সত্যিই হুবহু গল্পের মতোই লাগছে! তার মানে সত্যিই একটা গল্প লিখে লেছে তপন ৷ তার মানে তপনকে এখন ‘লেখক’ বলা চলে। হঠাৎ ভয়ানক একটা উত্তেজনা অনুভব করে তপন, আর দুদ্দাড়িয়ে নীচে নেমে এসে—ছোটোমাসিকেই

বলে বসে, ‘ছোটোমাসি, একটা গল্প লিখেছি।'

ছোটোমাসিই ওর চিরকালের বন্ধু, বয়সে বছর আষ্টেকের বড়ো হলেও সমবয়সি, কাজেই মামার বাড়ি এলে সব কিছুই ছোটোমাসির কাছে। তাই এই ভয়ানক আনন্দের খবরটা ছোটোমাসিকে সর্বাগ্রে দিয়ে বসে।

তবে বিয়ে হয়ে ছোটোমাসি যেন একটু মুরুব্বি মুরুব্বি হয়ে গেছে, তাই গল্পটা সবটা না পড়েই একটু চোখ বুলিয়েই বেশ পিঠ চাপড়ানো সুরে বলে, “ওমা এ তো বেশ লিখেছিস রে? কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?

‘আঃ ছোটোমাসি, ভালো হবে না বলছি।'

‘আরে বাবা খেপছিস কেন? জিজ্ঞেস করছি বই তো নয়! রোস তোর মেসোমশাইকে দেখাই—।'

কিন্তু গেলেন তো—গেলেনই যে। কোথায় গল্পের সেই আঁটসাঁট ছাপার অক্ষরে গাঁথা চেহারাটি? যার জন্যে হাঁ করে আছে তপন? মামার বাড়ি থেকে বাড়িতে চলে এসেও। এদিকে বাড়িতে তপনের নাম হয়ে গেছে, – কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী। আর উঠতে বসতে ঠাট্টা করছে ‘তোর হবে। হাঁ বাবা তোর হবে।

তবু এইসব ঠাট্টা-তামাশার মধ্যেই তপন আরো দু'তিনটে গল্প লিখে ফেলেছে। ছুটি ফুরিয়ে এসেছে, হোম টাস্ক হয়ে ওঠেনি, তবু লিখছে। লুকিয়ে লিখছে। যেন নেশায় পেয়েছে।

তারপর ছুটি ফুরোল, রীতিমতো পড়া শুরু হয়েছে। প্রথম গল্পটি সম্পর্কে একেবারে আশা ছাড়া হয়ে গেছে, বিষণ্ণ মন নিয়ে বসে আছে এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা। ছোটোমাসি আর মেসো একদিন বেড়াতে এল, হাতে এক সংখ্যা ‘সন্ধ্যাতারা'। 

কেন? হেতু? ‘সন্ধ্যাতারা' নিয়ে কেন?

বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।

তবে কী? সত্যিই তাই? সত্যিই তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনটি এল আজ? 

কিন্তু তাই কী সম্ভব? সত্যিকার ছাপার অক্ষরে তপন কুমার রায়ের লেখা গল্প, হাজার-হাজার ছেলের হাতে হাতে ঘুরবে?

পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে? তা ঘটেছে, সত্যিই ঘটেছে। সূচিপত্রেও নাম রয়েছে।

‘প্রথম দিন’ (গল্প) শ্রীতপন কুমার রায়

সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়, তপনের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ওর লেখক মেসো ছাপিয়ে দিয়েছে। পত্রিকাটি সকলের হাতে হাতে ঘোরে, সকলেই একবার করে চোখ বোলায় আর বলে, ‘বারে, চমৎকার লিখেছে তো।'

মেসো অবশ্য মৃদু মৃদু হাসেন, বলেন, ‘একট-আধটু ‘কারেকশান’ করতে হয়েছে অবশ্য। নেহাত কাঁচা তো?? মাসি বলে, ‘তা হোক, নতুন নতুন অমন হয়—' ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।

ওই কারেকশানের কথা।

বাবা বলেন, ‘তাই। তা নইলে ফট করে একটা লিখল, আর ছাপা হলো, '

মেজোকাকু বলেন, ‘তা ওরকম একটি লেখক মেসো থাকা মন্দ নয়। আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম।' ছোটোমাসি আত্মপ্রসাদের প্রসন্নতা নিয়ে বসে বসে ডিম ভাজা আর চা খায়, মেসো শুধু কফি।

আজ আর অন্য কথা নেই, শুধু তপনের গল্পের কথা, আর তপনের নতুন মেসোর মহত্ত্বের কথা। উনি নিজে গিয়ে না দিলে কি আর ‘সন্ধ্যাতারা’-র সম্পাদক তপনের গল্প কড়ে আঙুল দিয়ে ছুঁতো? তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় এইসব কথার মধ্যে। গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না।

অনেকক্ষণ পরে মা বলেন, ‘কই তুই নিজের মুখে একবার পড় তো তপন শুনি! বাবা, তোর পেটে পেটে এত!’ এতক্ষণে বইটা নিজের হাতে পায় তপন।

মা বলেন, ‘কই পড়? লজ্জা কী? পড়, সবাই শুনি।'

তপন লজ্জা ভেঙে পড়তে যায়।

কেশে গলা পরিষ্কার করে।

কিন্তু এ কী!

এসব কী পড়ছে তপন?

এ কার লেখা?

এর প্রত্যেকটি লাইন তো নতুন আনকোরা, তপনের অপরিচিত।

এর মধ্যে তপন কোথা?

তার মানে মেসো তপনের গল্পটিকে আগাগোড়াই কারেকশান করেছেন। অর্থাৎ নতুন করে লিখেছেন,

নিজের পাকা হাতে কলমে! তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে। তারপর ধমক খায়, ‘কীরে

তোর যে দেখি পায়ার ভারী হয়ে গেল। সবাই শুনতে চাইছে তবু পড়ছিস না? না কি অতি আহ্লাদে বাক্য হরে গেল?’

তপন গড়গড়িয়ে পড়ে যায়। তপনের মাথায় ঢোকে না—সে কী পড়ছে। তবু ‘ধন্যি ধন্যি’ পড়ে যায়। আর একবার রব ওঠে তপনের লেখক মেসো তপনের গল্পটি ছাপিয়ে দিয়েছে।

তপন বইটা ফেলে রেখে চলে যায়, তপন ছাতে উঠে গিয়ে শার্টের তলাটা তুলে চোখ মোছে। তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। কেন? তা জানে না তপন। 

শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন, যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয় তো, তপন নিজে গিয়ে দেবে। নিজের কাঁচা লেখা। ছাপা হয় হোক, না হয় না হোক। তপনকে যেন আর কখনো শুনতে না হয় ‘অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে।'

আর তপনকে যেন নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়তে না হয়।তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!


কবি পরিচিতি:

আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯–১৯৯৫) : অন্যতম প্রধান বাঙালি লেখিকা। জন্ম কলকাতায়। স্কুল-কলেজে পড়ার সুযোগ ঘটেনি। অথচ অসামান্য সূক্ষ্ম দৃষ্টি, সংবেদনশীলতা ও পরিচিত সমাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনকে আশ্চর্য দক্ষতায় তার গল্প-উপন্যাসে তুলে ধরেছিলেন। তিনি দীর্ঘ জীবনে অসংখ্য উপন্যাস, গল্প এবং ছোটোদের জন্য অজস্র বই লিখেছেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য —‘ছোট ঠাকুরদার কাশীযাত্রা’, ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা', ‘বকুলকথা’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সাগর শুকায়ে যায়’, ‘শশীবাবুর সংসার’, ‘সোনার হরিণ' ইত্যাদি। তাঁর রচিত অন্তত ৬৩টি গ্রন্থ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’, ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি. লিট’ এবং নানা সরকারি খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।


Do you have any doubts? chat with us on WhatsApp
আমি আপনাকে কি ভাবে সাহায্য করতে পারি? Skguidebangla is typing ...
আপনি এখানে লিখুন...