BREAKING

আপনার যা প্রয়োজন এখানে সার্চ করুন

মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০২২

ভাবসম্প্রসারণ |নবম শ্রেণীর বাংলা ভাবসম্প্রসারণ সাজেশন প্রশ্ন উত্তর|Bhabasamprasarana

ভাবসম্প্রসারণ | নবম শ্রেণীর  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ প্রশ্ন উত্তর |নবম শ্রেণির  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ প্রশ্ন উত্তর PDF |Class 9 Bengali Bhabasamprasarana pdf download


আজ আমি তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ নবম শ্রেণী সাজেশন,Bengali Bhabasamprasarana class 9 question Pdf | WB Class nine Bengali question pdf free |WBBSE পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য নবম শ্রেণীর  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ প্রশ্ন উত্তর 2022 গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তোমাকে সাহায্য করবে।


তাই দেড়ি না করে এই পোস্টের নীচে দেওয়া Download লিংকে ক্লিক করে |নবম শ্রেণি বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর pdf download । Class ix Bhabasamprasarana Question Pdf  ডাউনলোড করো । এবং প্রতিদিন বাড়িতে বসে প্রাক্টিস করে থাকতে থাক।ভবিষ্যতে আরো গুরুত্বপূর্ণ Note ,Pdf ,Current Affairs,ও প্রতিদিন মকটেস্ট দিতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।


নবম শ্রেণীর গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ সাজেশন প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো।

ভাবসম্প্রসারণ-1

১.ছােটো বালুকার কণা, বিন্দু বিন্দু জল |গড়ি তােলে মহাদেশ, সাগর অতল।

ভাবসম্প্রসারণ: একটি বালুকার কণা এতই ক্ষুদ্র, এতই নগণ্য, এতই অকাজের যে, এ পৃথিবীতে তার কোনাে মূল্যই নেই। কিন্তু এমনই বালুকার কলা একে একে মিলে তৈরি করে এক একটি মহাদেশ। একইরকমভাবে, একফোঁটা জলও নিতান্তই ক্ষুদ্র ও নগণ্য | অথচ এই জলবিন্দু দিয়েই গড়ে ওঠে এক একটি সমুদ্র মানবসমাজের ক্ষেত্রেও এ কথা সমানভাবে প্রযােজ্য। সাধারণ ব্যক্তিমানুষ এ দুনিয়ায় এককভাবে বড়াে ক্ষুদ্র, বড়াে দুর্বল। এককভাবে সে সমাজের জন্য বিশেষ কিছুই করে উঠতে পারে না, কোনাে ছাগও রাখতে পারে না মানবসমাজে। কিন্তু সমাজের কল্যাণে বহু মানুষ একত্রিত হলে বহু অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে। সুতরাং ব্যক্তিমানুষ যত তুহেই হােক, সে যখন সমষ্টিগতভাবে কোনাে গঠনমূলক কাজে আত্মনিয়ােগ করে, তখন সে মহাশক্তির আকর হয়ে ওঠে। 'একতাই বল” এই বেদবাক্যটি তাই জীবনের এগিয়ে চলার পথে মানুষকে সর্বদাই মনে রাখতে হবে।


ভাবসম্প্রসারণ-2

রাত্রে যদি সূর্যশােকে ঝরে অশ্রুধারা|সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা। 

ভাবসম্প্রসারণ অতীত যতই গৌরবময় হােক তা কখনও ফিরে আসে না। অথচ মানুষ অনেকসময় এই সহজ সত্যটি উপলদ্ধি করতে না পেরে অতীতের জন্য আক্ষেপ করে। যা ফিরে পাওয়া যাবে না তারই কামনায় সে। উপেক্ষা করে বর্তমানকে| এর ফলে অতীতকে যেমন ফিরে পাওয়া যায় না, তেমনি বর্তমানের সহজপ্রাপ্য সুখ থেকেও সে বক্তি হয়। তখন একুল-ওকুল দুকূল হারানাের হতাশা আর নৈরাশ্য তার জীবনকে শােচনীয়ভাবে ব্যর্থ করে তােলে | বর্তমান যত অকিঞিৎকরই হােক না কেন, তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। মনে রাখা দরকার, প্রতিটি মুহূর্তই ‘জীবনের পরম লগন', তাকে হেলায় নষ্ট না করে সমাদরে বরণ করে নেওয়াই কর্তব্য | অপ্রাপ্যের দুরাকাঙ্ক্ষায় হতাশা ছাড়া আর কিছুই নেই, প্রাপ্য বস্তুর মর্যাদাদানেই আছে জীবনের যথার্থ সার্থকতা। তাই সূর্যের মেয়াদ শেষ হলে রাত্রির  অন্ধকারেসূর্যশােকে অশ্রু বিসর্জন করে তারাদের অস্তিত্বকে ব্যর্থ করবার কোনাে মানেই হয় না।

ভাবসম্প্রসারণ-3

 এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি।রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

ভাবসম্প্রসারণ: শ্রেণিবিভক্ত সমাজব্যবস্থায় ক্ষমতাভােগী মুষ্টিমেয় মানুষের দ্বারা প্রতিদিন শােষিত হয়ে চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষ। এর ফলে শােষক শ্রেণি আরও বেশি সমৃদ্ধিশালী হয়ে ওঠে। আর সাধারণ মানুষ আরও গরিব হয়। অথচ ধনীরা যে ধনসম্পদের অধিকারী, তা তাদের প্রয়ােজনের তুলনায় অতিরিক্ত। কিন্তু ক্ষমতার মােহ যে প্রলােভনের উন্নতার জন্ম দেয়, সেখানে বঙ্গহীন হয়ে ওঠে শােষণ | ফলে মনুষ্যত্ব লাঞ্ছিত হয়, দুর্বিষহ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা। এই চাহিদা এবং শােষণের তীব্রতার সামনে প্রায়শই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় শ্রমজীবী মানুষকে। জীবনানন্দের ভাষায় বলতে হয়—“সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ। ধনীদের দ্বারা গরিবের সম্পদলাভ এবং তাদের নিঃস্ব করে দেওয়ার চেষ্টা তাই মানব ইতিহাসের এক নষ্ট প্রাত্যহিকতা।


ভাবসম্প্রসারণ-4

যারা শুধু মরে কিন্তু নাহি দেয় প্রাণ,কেহ কভু তাহাদের করেনি সম্মান।

ভাবসম্প্রসারণ: মৃত্যু মানবজীবনের অনিবার্য পরিণাম। “জন্মিলে মরিতে হবে/অমর কে কোথা কবে'—কবির এই বাণীতেও রয়েছে সেই চিরন্তন। সত্যের ইঙ্গিত। কিন্তু এই মৃত্যুর প্রকারভেদ আছে। সাধারণভাবে খেয়ে-পরে

আত্মকেন্দ্রিক জীবন কাটিয়ে যারা মরে, তাদের মৃত্যু সাধারণ ঘটনা মাত্র। সেই মৃত্যুর মধ্যে কোনাে মাহাত্ম্য নেই, নেই কোনাে গৌরবও | কিন্তু এমন অনেক মানুষ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন, যাঁদের জীবন কোনাে-না-কোনাে মহৎ আদর্শে নিবেদিত। তারা শুধু প্রাণ ধারণই করেন না, মহৎ উদ্দেশ্যে জীবন সমর্পণ করেন। ব্যক্তিসুখ অপেক্ষা দেশের ও দশের সেবাকেই তারা বড়াে করে দেখেন। এই শ্রেণির মানুষের মৃত্যু সাধারণের মৃত্যুর থেকে আলাদা। তাদের মৃত্যু পরম গৌরবে ভূষিত | তাই তাদের দেহগত জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলেও তারা মানুষের মনে অমর হয়ে থাকেন


ভাবসম্প্রসারণ-5

দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার।

ভাবসম্প্রসারণ যুগ যুগ ধরে সমাজে অপরাধ যেমন আছে, তেমনি পাশাপাশি আছে অপরাধের দণ্ডবিধান | শাস্তি দেওয়ার প্রয়ােজনীয়তার কথা ভেবেই তৈরি হয়েছে নানান নিয়ম, নির্দিষ্ট করা হয়েছে বিচারকের আসন।যিনি বিচারক বা দণ্ডদাতা, শাস্তিদানের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা সবচেয়েগুরুত্বপূর্ণ। বিচারককে সবসময় নিরপেক্ষ থাকতে হয়; দণ্ডদানকারীর হৃদয়বান হওয়া দরকার। শাস্তি পাওয়ার জন্য অপরাধীকে যে যন্ত্রণা ভােগ করতে হবে বিচারক যদি মানুষ হিসেবে তা অনুভব করতে না পারেন, তাহলে তা মানবিকতার পরিপন্থী বলে মানতে হবে। সত্যিকারের বিচার তখনই সম্ভব যখন অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দন্ড দেওয়া হবে এবং দণ্ডিতের জন্য বিচারকের মন সমবেদনায় পূর্ণ হয়ে উঠবে| এইরকম বিচারে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না অথচ অপরাধীকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি জানানাে হয়। বােঝা যায়, দণ্ডদাতা শাস্তি দিলেও মানুষ হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য তিনি বেদনা অনুভব করছেন।


ভাবসম্প্রসারণ-6 

উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে | তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে।

ভাবসম্প্রসারণ: মানসিকতার গুণগত বিচারে মানবসমাজে আমরা তিন শ্রেণির মানুষ দেখতে পাই, যথা—উত্তম, মধ্যম এবং অধম। উত্তমের স্থান সবার ওপরে, অধমের স্থান সবার নীচে। আর এই দুইয়ের মাঝখানে থাকে মধ্যম৷ সে অধমের মতাে নিকৃষ্ট নয়, আবার উত্তমের মহানুভবতাও তার নেই| উত্তম ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসী এবং উদার, গুণহীন অধমের সংস্পর্শে অধম প্রতিপন্ন হওয়ার ভয় তার মধ্যে নেই। সেজন্য নিশ্চিন্তে অধমের সঙ্গে মিশতে পারে সে। অধমের সঙ্গে মিশে তার গৌরবহানি হয় না, বরং এর মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায় তার শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু মধ্যম শ্রেণির মানুষ উত্তমের মতাে উদার হতে পারে না। আত্মবিশ্বাসের অভাবে অধম হিসেবে প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় যে প্রতিমুহূর্তে অধমের সঙ্গে তফাত রেখে চলে, তাকে তাচ্ছিল্যভরে দূরে সরিয়ে রাখতেই স্বস্তিবােধ করে।


ভাবসম্প্রসারণ-7 |

 পুষ্প আপনার জন্য ফুটে না, পরের জন্য তােমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও 

ভাবসম্প্রসারণ অন্যকে মুধ করা ও সৌরভ দান করাই ফুলের কাজ| মানুষের হৃদয়কেও তুলনা করা যায় ফুলের সঙ্গে| হৃদয়বান মানুষ কেবল নিজেকে নিয়ে তৃপ্ত থাকতে পারে না। অপরকে ভালােবেসে, অপরের মঙ্গলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে সে পরম তৃপ্তি পায়। ফুল যদি বিকশিত হয়ে তার রূপগন্ধ দান করতে না পারে, তবে সে যেমন ব্যর্থ, তেমনি মানুষ হয়ে জন্মেও যদি কেউ হৃদয়কে প্রসারিত করতে না পারে, তবে সে-ও ব্যর্থ। মানুষ যে জীবকুলে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে, সে কেবল তার বুদ্ধির জন্য নয়, বুদ্ধির সঙ্গে মনে রাখতে হবে তার উদার হৃদয়ধর্মের কথাও | এই পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আবির্ভূত হয়েছেন যারা আত্মসুখের কথা ভাবেননি, পরের জন্য উৎসর্গ করেছেন নিজের জীবন | সেইসবমহান ব্যক্তির আত্মত্যাগ মানুষের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই মানুষের প্রার্থনা হওয়া উচিত—

 জীবন আমার করাে ফুলের মতন 

            শােভার আধার, 

পবিত্র সুগন্ধে যেন আমি সবাকারে 

তুষি অনিবার।


ভাবসম্প্রসারণ-8

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।

ভাবসম্প্রসারণ: সুশৃঙ্খল সভ্য জীবনযাপনের জন্য মানুষ সমাজবদ্ধ হয়েছে, গড়ে তুলেছে ন্যায়-অন্যায়ের বিধি। যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে অন্যায় করে সে। যেমন ঘৃণ্য, তেমনি অন্যায়কে যে সহ্য করে সে-ও সমান অপরাধে অপরাধী।অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা দুর্বলতারই নামান্ত্র। চোখের সামনে অপরাধ ঘটতে দেখেও যে নীরব থাকে সে আসলে ভীরু, পলায়নবাদী। তার পরােক্ষ সহায়তা ও প্রশ্রয়ের ফলেই অন্যায়কারী তার অন্যায় কাজ করে যেতে পারে। সমাজে বেড়ে যায় অপরাধের মাত্রা। অন্যায় সহ্য করাটাও তাই অন্যায়। প্রত্যক্ষভাবে অন্যায়কারী এবং অন্যায় সহ্যকারী উভয়েই সমাজের

জঞ্জালস্বরূপ | উভয়েই সমাজ ও সভ্যতার শত্রু। তাই মানুষকে শুধু অন্যায়কর্ম থেকে বিরত থাকলেই চলবে না, তাকে অন্যায়ের প্রতিবাদও করতে হবে। সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে হলে নিজের ব্যক্তিগত সততাই যথেষ্ট নয়, চাই প্রতিবাদ ও প্রতিরােধের সৎ সাহসও | নতুবা অপরাধীর সঙ্গে তাকেও বসতে হবে এক আসনে।


ভাবসম্প্রসারণ-9 

স্বার্থমগ্ন যে জন বিমুখ বৃহৎ জগৎ হতে, সে কখনও শেখেনি বাঁচিতে।

ভাবসম্প্রসারণ মানুষের চোখের সামনে রয়েছে কলরবমুখরিত পৃথিবী।এখানে অনুপম প্রকৃতিশােভা আছে, জীবজগতের' বিচিত্র লীলা আছে,সর্বোপরি আছে মানবহৃদয়ের উম্ন স্পর্শ এবং পরস্পরের মধ্যে সহযােগিতার বােধ। তবু যদি কেউ এসবের প্রতি বিমুখ হয়ে ক্ষুদ্র স্বার্থকে বড়াে বলে মনে করে, তবে তার মতাে হতভাগ্য আর কেউ নেই। কেননা স্বার্থপরতার মধ্যে যে স্থূল তৃপ্তি আছে তা মানুষের নয়, পশুর স্বভাবের সঙ্গে মেলে। মানুষকে মানুষের মতাে বাঁচতে হলে ক্ষুদ্র স্বার্থের গণ্ডি অতিক্রম করে বেরিয়ে আসতে হবে| নিজেকে যুক্ত করতে হবে বৃহৎ জগৎ ও জীবনের সঙ্গে মনে রাখতে হবে সংকীর্ণ আত্মপরতা মানবজীবনকে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ করে যে জীবন বহির্জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন, সে জীবন পার্থিব সম্পদে পরিপূর্ণ হলেও প্রকৃতপক্ষে শূন্য। পৃথিবীতে স্বার্থপর মানুষেরা কখনােই সুখী হতে পারে না। বরং অন্যের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই আছে অনাবিল আনন্দ ও তৃপ্তি | সমাজ, দেশ তথা সমগ্র পৃথিবীর কল্যাণসাধনে আত্মবিসর্জন করার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত মানুষ হিসেবে বাঁচার সঠিক পথের সন্ধান।


ভাবসম্প্রসারণ-10

চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী।

ভাবসম্প্রসারণ: মানবসমাজে মুষ্টিমেয় ব্যক্তির হাতে প্রচুর সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়ার ফলে বহু মানুষকে অনটনের মুখে পড়তে হয়। তখন তাদেরই মধ্যে কেউ কেউ অভাবমােচনের জন্য চুরির মতাে অসৎ পথ বেছে নেয়। ঐশ্বর্যময়ী ধরণির সম্পদ মুষ্টিমেয় কৃপণ ধনীর ঘরে সঞ্চিত না হয়ে যদি সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হত, তাহলে সমাজে দারিদ্র্য থাকত না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হয় না। ধনী তার ধনভাণ্ডারকে আরও স্ফীত করার জন্য সর্বদা তৎপর—“এ জগতে হায় সেই বেশি চায়/আছে যার ভূরি ভূরি।” ধনীর মানবিকতাহীন এই সঞয়লিঙ্গা দারিদ্র্যসৃষ্টির অন্যতম কারণ | আর দারিদ্র্যের জ্বালা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশাতেই কোনাে কোনাে মানুষ নীতিজ্ঞান হারিয়ে চুরির পথ বেছে নেয়। সুতরাং সমাজে চৌর্যবৃত্তির মূলে রয়েছে কৃপণ ধনীর ধনলােভা কাজেই আইনের চোখে চোর দোষী হলেও তার চৌর্যবৃত্তির জন্য দায়ী যে কৃপণ ধনী, তার দোষ নিশ্চয়ই আরও অনেক বেশি।


ভাবসম্প্রসারণ-11

দ্বার বন্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি  সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি

ভাবসম্প্রসারণ: একজন মানুষ সারাজীবন মুখােমুখি হয় নানাপ্রকার বাধাবিঘ্ন ও প্রতিকুলতার। জীবনপথে চলতে গিয়ে তাই অনেকসময়ে ভুলের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে সে। গাছপালা বা পশুপাখি তাদের জৈবিক নিয়মেই চলে,তাদের জীবন হল নির্ভুল টিকে থাকা মাত্র। মানুষ যেহেতু তার কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকতে জানে, তাই তার ভুল করাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক | স্বামী বিবেকানন্দ যথার্থই বলেছেন যে, “সকল কার্যে ভ্ৰম-প্রমাদ আমাদের প্রধান শিক্ষক। যে ভ্রমে পতিত হয়, ঋতপথ তাহারই প্রাপ্য” (শূদ্র জাগরণ')। কিন্তু দুর্বলচেতা মানুষ লজ্জা, ভয়, দ্বিধা, সংকোচ প্রভৃতির কারণে অনেক কাজ থেকেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। কিন্তু ভুলের ভয়ে দুয়ার বন্ধ করে বসে। থাকলে সত্যের প্রবেশপথটি রুদ্ধ হয়ে যায়, মানুষের কর্মস্পৃহাও নষ্ট হয়ে যায় এতে। তাই ভুলভ্রান্তিকে অভিশাপ না ভেবে আশীর্বাদরূপে গ্রহণ করে, নতুন অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার আলােয় এগিয়ে চলতে পারলেই মানবজীবন সুখীও সার্থক হবে।


ভাবসম্প্রসারণ-12

কেরােসিন শিখা বলে মাটির প্রদীপে

ভাই বলে ডাক যদি দেব গলা টিপে।

হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা,

কেরােসিন শিখা বলে, এসাে মাের দাদা।


ভাবসম্প্রসারণ পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষেরই বৈশিষ্ট্য হল এই যে, তাঁরা অন্যদের বিচার করেন ধনসম্পদ, মানমর্যাদা, ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তির নিরিখে। নিজেরাও সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য অর্থ ও ক্ষমতার পেছনে ছুটে বেড়ান। তাই সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে এবং অহংকারের মােহে আচ্ছন্ন হয়ে অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের সংস্রব ত্যাগ করতেও কুণ্ঠিত হন না তাঁরা। অন্যদিকে তারা উন্মাদের মতাে সচেষ্ট হন তাদের তুলনায় এগিয়ে থাকা মানুষজনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে| এমনটা করতে গিয়ে তাঁরা তাঁদের আত্মসম্মান বিসর্জন দিতেও পিছপা হন না। কিন্তু কখনও ভুলেও ভাবেন না যে, পার্থিব প্রয়ােজন মেটালেও অর্থ বা ক্ষমতা কখনােই মানুষকে প্রকৃত সুখী করতে পারে না।জীবনের প্রকৃত আনন্দ পেতে গেলে তাই মানুষের বিশ্বাস ও ভালােবাসা অর্জন করতে হবে। তাহলেই মানুষ খুঁজে পাবে জীবনের প্রকৃত অর্থ, অনুভব করতে পারবে জীবনের প্রকৃত আনন্দ।


ভাবসম্প্রসারণ-13

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।

ভাবসম্প্রসারণ: বিশ্বভুবনে অন্য সমস্ত জীবের তুলনায় মানুষ যে শ্রেষ্ঠ, সে বিষয়ে আজ আর সন্দেহের অবকাশ মাত্র নেই। মানুষ তার বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বপ্রকৃতির নিয়মকে কাজে লাগিয়ে ব্রতী হয়েছে তাকে নবরূপে, নবসাজে সাজাতে। কিন্তু এরই বিপরীতে মানুষ কুসংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে গড়ে তুলেছে বিভেদ-বৈষম্যের পাঁচিল। জীর্ণ সংস্কারের বলে ও ভ্রান্ত বিশ্বাসের তাড়নায় এক শ্রেণির মানুষ কিছু মানুষকে হীন দৃষ্টিতে দেখে, অবহেলা করে। কিন্তু এই পৃথিবীর সকল মানুষই মানুষ হিসেবে সমান মর্যাদার অধিকারী। ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-দেশকালের সীমার উধের্ব থাকা মনুষ্যত্বই মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়। এমনকি বিশ্বদেবতার থাকা বা না থাকাটাও নির্ভর করে মানুষের অস্তিত্বের ওপর, মানুষের ভাবনার ওপর। কেননা, মানুষেরই ‘চেতনার রঙে' চুনি রাঙা হয়ে ওঠে, গােলাপ হয় সুন্দর। এ কারণেই এ পৃথিবীতে একজন মানুষ শেষপর্যন্ত বিবেচিত হয় তার মনুষ্যত্বের দ্বারাই | এ পৃথিবীতে মানুষ এবং মনুষ্যত্বই তাই একমাত্র সত্য এবং শাশ্বত।


[TAG]:   নবম শ্রেণীর  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ সাজেশন 2022 pdf,নবম শ্রেণীর প্রশ্ন উত্তর 2022,নবম শ্রেণির  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ সাজেশন,নবম শ্রেণি,নবম শ্রেণির  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ উত্তর,নবম শ্রেণীর প্রশ্ন উত্তর  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ ,নবম শ্রেণির  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ সাজেশন,নবম শ্রেণির  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ প্রশ্ন সাজেশন,নবম শ্রেণির  বাংলা ভাবসম্প্রসারণ সাজেশন,Class 9 Bengali Bhabasamprasarana suggestion,class ix bengali subject question Bhabasamprasarana,,


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন